শারদ সংখ্যা ১৪২৪

প্রচ্ছদ শিল্পী - কৃষ্ণেন্দু মন্ডল



কুটুম কাটাম


জীবনস্মৃতি


অন্যরকম




সম্পাদকের কথা


দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, একটু খোঁজাখুঁজি করলেই, নয় নয় করে অন্তত তিনশটি রামায়ণের বর্ণনা আছে। প্রায় সব কটা বর্ণনার মূল স্বরটায় একটা সামঞ্জস্য আছে। রামের টুকটুকে বৌকে রাবণ অপহরণ করে নেওয়ার পর, রাম-রাবণের যুদ্ধ হয় এবং তার আগে-পরের নানা ঘটনা — মোটমাট এই হলো রামায়ণ। আর এই রামায়ণের কল্যাণেই আমাদের দুর্গা পূজা। মানে রাম তো যাবেন লড়তে (বৌ কিনা হনুমানের সাথে পালিয়ে আসতে নারাজ), কিন্তু কোমরের জোর বেশ নড়বড়ে। একজন বুদ্ধি দিলেন, দুর্গাকে ভজিয়ে যদি আশীর্বাদ জোগাড় করা যায় তাহলে এক্কেবারে গ্যারেন্টেড লঙ্কা-বিজয়। কিন্তু তখন নাকি আবার দুর্গার ঘুমের সময়। দেবীকে জাগানো তো আর চাট্টিখানি কথা নয়, কোনো বামুনের সাহসে কুলোয় না। এদিকে বৌ বিনা রামের বড় কষ্ট! তখন রাম গেলেন তখনকার শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণের কাছে, অকাল বোধনের জন্য।

হাঙর - মিলন গাঙ্গুলী

“দ্বীপে হাঙর পাওয়া যায় না?” জানতে চাইলাম।

ঢক ঢক করে বিয়ার গিলছিল টাকো । খালি বিয়ারের টিনটা দূরে ফেলে নতুন আরেকটা টিন তুলে নিতে নিতে বিরক্ত হয়ে বলল, “
দ্বীপে হাঙর আসবে কি করে? ওরা সাগরে থাকে। অগভীর জলেও চলে আসে কখনও কখনও। জোয়ারের জল চলে গেলেই লেগুনের ভেতরে আটকা পড়ে যায়। তখন যে সাঁতার কাটতে নামে তার কপালে খারাবি হয়। তবে বেশির ভাগ সময় হাঙরটা মারা যায়।

“তুমি হাঙর নিয়ে অনেক কিছু জানো তাই না?” হাসলাম।
পালাউ দ্বীপ
“উহু, ভাল জানে পালাউ (palau) দ্বীপের লোকজন।”

“পালাউ দ্বীপ এখান থেকে কত দূর?”

“খুব বেশি দূর না। দ্যাখ না কত হালি হালি পালাওয়ান এই দ্বীপে আসে কাজ করার জন্য। অদের ওখানে বেতন কম। ঘণ্টায় মাত্র দেড় ডলার। তাই।”

“বেশ বড় দ্বীপ?”

“বড়। তবে মাত্র একটা দ্বীপ নিয়ে পালাউ না। ২৫০টা দ্বীপ মিলে মিশে পালাউ। দেখতে বেশ সুন্দর। ছায়া ছায়া স্বপ্নের মত। গেলে আর আসতে ইচ্ছা করবে না।”

যাত্রা, সুন্দরবন আর আজকের একজন মানুষ - সুমন বিশ্বাস

[এটি কোন পুস্তক বিষয়ক আলোচনা নয়, স্মৃতিকথা নয়, ভ্রমণ কাহিনী নয়। ঠিক যে কি তা আমি নিজেই পরিষ্কার করে বলতে পারব না। ওই একটু আধটু অভিজ্ঞতার বর্ণনা আর নিজের চিন্তাভাবনাকে কলমের ডগায় আনার চেষ্টা। বেশ বড় হয়ে গেল লেখাটা, জানি না ক’জন ধৈর্য বজায় রেখে শেষ অব্ধি পড়তে পারবেন। কয়েকটি ছবিও দিয়েছি লেখাটিতে উল্লেখ করা বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে।]

সম্প্রতি একটি বই হাতে পেলাম। ‘চিৎপুর চরিত্র’, ষাটের দশকে যাত্রাবন্ধু হিসাবে জনপ্রিয় প্রবোধবন্ধু অধিকারীর লেখা।
পড়তে যে খুব ভাল লেগেছে তা বলব না, প্রচুর নিজের পিঠ চাপড়ানি আর একঘেয়ে কূটকচালিতে ভর্তি। এই লেখকের হাত দিয়ে অসামান্য উপন্যাস ‘ধলেশ্বরী’ কি করে বেরিয়েছিল ভাবতেই অবাক লাগছে। তাছাড়া ঘটনাগুলো প্রায় পঞ্চাশ-ষাট বছরের পুরনো, আজকের দিনে সেই সব ঘটনা প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে মূল্যহীন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু পড়তে গিয়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছি, অন্ধকারের আড়ালে থাকা একটা অচেনা জগতের উপর তারার আলো পড়ে কেমন যেন ঝাপসা ঝাপসা আবছা একটা ছবি চোখের সামনে ফুটে উঠেছে। পরিষ্কার করে দেখার চেষ্টা করছি চশমার কাঁচ মুছে, কিন্তু অন্ধকার কাটছে না।

একটি কল্পিত গল্পকথা - কৃশানু চন্দ

স্থান — হনুগড়
সময় — ১৯৭২

হনুগড়ের মধ্যে অরাজকতা। ছোট ছোট শিশুশাবকদের সিধুহাত হাতির তান্ডবে মরতে হচ্ছে। জঙ্গলের মধ্যে সবাই ভীত, শঙ্কিত মন নিয়ে কাঁপছে। কিছুই বলা যাচ্ছে না কবে কিভাবে এই ভয়ঙ্কর সমস্যার সমাধান হবে।


ওপরতলার মাংসাশী প্রাণীরা দিন দিন মোটা হচ্ছে।


সব সাধারণ পিঁপড়েরা খাটছে, খিদের চোটে কষ্ট পাচ্ছে, রুগ্ন হয়ে মরছে, আবার জন্মাচ্ছে।


স্থান — হনুগড়

সময় — ১৯৭৭

হনুগড়ে আলোলাল সিংহের আগমন।জঙ্গলের পশুপাখীদের সঙ্গে নিয়ে দাপটের সাথে সিধুহাত হাতিকে পরাজিত করে অবশেষে হনুগড়ে শান্তি আনেন আলোলাল সিংহ।


ওপরতলার মাংসাশী প্রাণীরা দিন দিন আরও মোটা হচ্ছে।


সব সাধারণ পিঁপড়েরা আরও খাটছে, খিদের চোটে আরও কষ্ট পাচ্ছে, রুগ্ন হয়ে মরছে, আবার জন্মাচ্ছে।


তোমার আমার দুর্গা - কেয়া রায়

জানিস, আমার দুর্গা রোজ সকাল থেকে সন্ধ্যে পথেঘাটে ফেরি করে কিংবা লোকের বাড়ি কাজ করে বেড়ায় দু'পয়সা রোজগারের আশায়। আর তোদের দুর্গা?

জানিস, আমার দুর্গা ছেঁড়া কাঁথা গায়ে দিয়েই দিনান্তে দু'বেলা দু'মুঠো খেয়ে ভালো থাকার স্বপ্ন দেখে। আর তোদের দুর্গা?

জানিস, আমার দুর্গার নরম শৈশব হারাচ্ছে তোদের বিকৃত মানসিকতার ভারে, কখনও ধর্ষণ তো কখনও যৌন নির্যাতন। আর তোদের দুর্গা?

বসন্ত; মানসী এবং ইন্দ্রজিৎ - সুস্মিতা দাস

বসন্ত,
কেন ডাক দাও বারে বারে...
হাতছানি দিয়ে যাও মুখচোরা কোকিলের পানে;
তবে যে আজ, যেন তোমায় অন্যরকম লাগে,
যে উপমায় চিনতাম তোমায়, তার থেকে ভিন্ন সাজে —
অচেনার গাম্ভীর্যে।

মোহিত হয়েছি আগেও, ভালোবেসেছি,
নেশায় ডুবিনি আগে;
রঙগুলো সব রয়েছে একই, শুধু বেড়েছে রকমারি;
লাল, গোলাপি,হলুদ-সবুজের কাড়াকাড়ি।

বাঁশ বন কেন হয়েছে চঞ্চল
পাখিদের কোলাকুলি;
খসখস করে ওঠে পাতারা সব
ফাঁকে ফিঙে আর বুলবুলি।

পাগল হাওয়ারা উন্মুক্ত,
ভাসিয়েছে মাদকতায়...
পাহাড়ের ডাকে নদী ছুটে যায়
ব্যাকুল কোন প্রাণের তৃষায় —

ওই সিঁদুরে-রাঙা ঝাঁকড়া মাথা গাছ,
এককোণে একাকী —
শান্ত হয়, জীবন খুঁজে পায়,
মানসী এবং ইন্দ্রজিৎ-এর ভালোবাসায়।


চিত্রালংকরণ - ঋভু চৌধুরী

পদ্ম ও কিশোর - শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রত্যেক বছর পুজো এলেই আমাকে নিজের একটা
পুরোনো ছবি পাঠায় ঋভু —
মামাবাড়ির দুর্গাদালানে বসে আছে ও, এদিকে ফেরানো মুখ
হাতে ধরা একখানা ফুটি ফুটি পদ্মকলি।
ওর মুখে হাসি নেই, দুঃখ নেই
কেবল শরতের সুখবর-আনা মেঘ ভেসে যাচ্ছে
এদিক থেকে ওদিক, ওদিক থেকে সেদিক...

এই এলোমেলো মেঘে পুজো আসে, পুজো চলে যায়।
ঢাক-কাঁসর-ঘন্টা বাজিয়ে জলের ধারে গিয়ে দাঁড়ায় মানুষ —
তখনই, আটচালা কিংবা মন্দিরের বাইরে, মুক্তনদীতটে
প্রকৃত বোঝা যায় মাতৃপ্রতিমা কত দূর —
মূর্ধায় স্পর্শ করে ঊর্ধ্বাকাশ, অন্তরাকাশ, দশদিক
নক্ষত্রলোক থেকে ব্যথার পৃথিবী
ধুলোয় ধুলোয় ছুঁয়ে থাকে শরৎকালের বিম্বমূর্তি এক...

একদিন ঢাকিরা ফিরে যায়। মলিন হয়ে পড়ে রোদ।
ঋভুর ছবিটা বের করে দেখি —
শূন্য দেউলচত্বরে ধান খুঁটছে ছাইবর্ণ ঘরপায়রার দল,
সিঁড়ির একটা ধাপিতে ও বসে আছে —
মুখ দেখা যাচ্ছে না, মুখ ওদিকে ফেরানো
হাতে ধরা পদ্মকলির বুকে একটি রাতুল ছাপ
বাকি পদচিহ্নেরা নিঃশব্দে জলের দিকে নেমে গেছে...


চিত্রালংকরণ - কর্ণিকা বিশ্বাস

স্বীকারোক্তি — ‘এক’ - দেবজিৎ ভট্টাচার্য্য



সময়ের চাকা গড়াচ্ছে —
বিন্দু বিন্দু করে জমছে প্রচুর রক্ত —
আঁশ খোসা জমা হয়ে — তৈরী হচ্ছে একতাল অবয়ব,
এরা নাকি যন্ত্র?
এদের বুকে নাকি স্পন্দন আসবে,
এদের নিঃশ্বাস পড়বে বাতাসে,
এরা নাকি শব্দের দোহাই দিয়ে —
স্লোগান দেবে, রাজনৈতিক মিছিলে।
আবার কিছুটা সময় পরে, স্বর্গের নিয়ম ভাঙবে এরাই,
পৃথিবীটাকে নরক বানাবে এরাই।
মাতৃক্রোড়ে জন্ম নেবে — অগণিত জরাসন্ধ,
প্যান্ডেমোনিয়ামে জমা হবে — বীভৎস কিছু লাশ।
তুমি আবার চীৎকার করে প্রশ্ন করবে —
হে ঈশ্বর এটাই কি তুমি চেয়েছিলে?
আমরা আবার পালন করব একটা করে দিন,
প্রতিরাতে মুখোশ পড়ে — বিছানা বদলাবে এ যুগের লিলিথ।
আমরা ভুলে গেছি এরা যন্ত্র,
এদের মস্তিস্ক বিকল,
এটা নিয়ে আর যাই হোক — বন্ধুত্ব হয় না,
এটাই আমার স্বীকারোক্তি,
এটাই স্তাবকতার শেষ পরিচয়।


চিত্রালংকরণ - কর্ণিকা বিশ্বাস

অনুভূতির কোলাজ - সুমনা দাসদত্ত


একটা কথা... একটা ব্যথা... অল্প হাসি...একটু দৃষ্টি... সব!
“তুমি কেন্দ্রিক”...
একটা তুমি... একটু তুমি...
অল্প তুমি... নাহলে!
জীবন খুবই যান্ত্রিক....



নতুন আলোর স্বপ্ন নিয়ে জেগে দেখলাম সেই পুরন অন্ধকার!
শুধু একবিন্দু আলো নিয়ে তুমি, সাঁঝতারা থেকে শুকতারা হয়ে জেগে থাক
প্রতিবার!



উড়িয়েছ ঘুড়ি,
গুটিয়েছ লাটাই
ফিরেছ তুমি ঘরে,
তোমার আর গেছে বল কতটা...
সম্পর্ক ছেঁড়ার যন্ত্রনা জানে...
যে ঘুড়ি হয়েছিল ভোকাট্টা!


যাহাই বৃত্ত... তাহাই শূন্য.
দেখতে একই ঠিক...
তুমি বৃত্তে... পরিবৃত..
আমি শূন্যে গোল্লাছুট....




আকাশ মাটির মিলন!
উঁহুঁ, ওই মিলনের মত কিছু একটা।
দৃশ্যভ্রমেই দৃষ্টিনন্দন,
ভুল ভালবাসার নাম দিগন্তরেখা।।



পলাশ, আবির, রঙ দিয়েছে
বসন্তের মুখে।
তবুও বসন্ত হতাশ কেমন
ঝরা পাতার শোকে।।
সবাই আছে, সবই আছে
সংগোপন।
বাতাস জুড়ে ওড়ে, পাতা
তুমি নেই, তাই মন কেমন।।



আমাদের শুকনো কোন গল্প
তোমার কাছে আছে?
থাকলে প্লিজ পাঠিও না,
আমার কাছে যা ছিল সব ভিজে
কিছুতেই শুকোচ্ছে না!



মন ছিলো তার মনখারাপের গল্প নিয়ে
সমস্ত সুখ, রাখছিল মন কান্না দিয়ে ধুয়ে
কান্না আবার ঝরনা হলো...
যখন তুই আঙ্গুল দিয়ে হৃদয় ছুঁলি
চরিত্র তুই আবার বোধহয় নষ্ট হলি....



সূর্য তোমার দিকেই তাকিয়ে আছি
রোদচশমাই আড়ালটুকু টানি!
তোমার সময় কাঁটায় মেপে কাটাই
আমিও আজ অনেক সাবধানী!


১০

উপেক্ষা থাক তোমার ডাকে
অপেক্ষা থাক সংক্রমিত শর্তে।
অহংকারী ভাবলে ভাবুক সব
আমার কিছু যায় আসে না তাতে।।



চিত্রালংকরণে - নীলাভ বিশ্বাস

অ্যাক্সিডেন্ট - মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ

প্রথমে ভেবেছিলাম গুলি করে মেরে ফেলি। খুব একটা কঠিন কাজ হবে না। পিস্তলের লাইসেন্স করা আছে। যদিও ওটা ব্যবহার করলে ধরা খেয়ে যাব, তাও ভাবলে কি একটা উপায় বের হবে না? কিন্তু গুলি করে মারলে তো আমার উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। ঠিক মত কাজ সারতে পারলে ব্যাটা কোন কষ্টই পাবে না, আবার একটু এদিক ওদিকে হয়ে গেল, আমি নিজেই ধরা খেয়ে যাব। কিন্তু আমি চাই ও কষ্ট পেয়ে মরুক, আর আমিও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকি। সুতরাং, গোলা গুলি বাদ।

এরপর ভাবলাম বিষ খাইয়ে দেই, কিন্তু আজকালকার বিষ যা বানাচ্ছে। ভাল ওষুধ না হলে চলবে না। র‍্যাট কিল-ফ্যাট কিল খেয়ে ইঁদুরই নেচে বেড়ায়। দেখা যাবে দুই দিন পাতলা পায়খানার পরই ব্যাটা ঠিক হয়ে গেছে। আর যদি ভাল ওষুধ পাইও, ওর তিলে তিলে কষ্ট পেয়ে মরাটা তো দেখতে পাব না।

এরপর মাথায় আসলো গলা টিপে মারি, কিন্তু সাথে সাথেই বাদ দিয়ে দিলাম। ব্যাটার যে হাতির মত দেহ, আমার ছোট খাট শরীরটা ওর সামনে পাত্তাই পাবে না। দেখা যাবে উল্টা আমাকেই ধরে......

ফলস্ নাইন - অনিন্দ্য রাউত

।। ১ ।।

কিশোর পল্লীপ্রীতি ক্লাব। এই বেহালা আর তার আশেপাশের অঞ্চলের সবচেয়ে বিখ্যাত ক্লাব। গড়পড়তা ধারণা অনুযায়ী একটি ক্লাব নানা সমাজসেবামূলক কাজের মধ্য দিয়ে নিজের অপরিহার্যতা বজায় রাখে। তার সাথে ফুটবল, ক্রিকেট, ক্যারম, তাস, দাবা টুর্নামেন্ট চলবে নিয়মমতো বছরের বিভিন্ন সময়ে। এছাড়া নানা সৃজনমূলক কাজ, পরিবেশ রক্ষা কর্মসূচী, কর্মশিক্ষা, নানা প্রদর্শনী হবে। দুর্গাপুজো, কালীপুজো, সরস্বতী পুজো মাস্ট। বিভিন্ন মনীষীর জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁদের স্মরণ করা হবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। কিন্তু কিশোর পল্লীপ্রীতি ক্লাব বিশেষ ভাবে বিখ্যাত একটি অন্য কারণে। তারা একটি সংগঠন চালায় - 'মিলনে জীবন'। সঙ্গে খবরের কাগজের পিছনের কোণায় চোখ পড়ে যাবেই এরকম বিজ্ঞাপনের মতো ট্যাগলাইন - 

গ্যারান্টি! গ্যারান্টি! গ্যারান্টি! ১০০% গ্যারান্টি! আমাদের দরবারে এসে মিলিত হোন আর সুখী সংসারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন। না হলে সমস্ত টাকা ফেরৎ আর কন্যার ভরণপোষণের দায়িত্ব আমাদের।


স্বভাবতই এরকম প্রস্তাবে সাড়াও মেলে প্রচুর। যেহেতু সুবিধাটা শুধু মেয়েদের এবং তাদের পরিবারের, তাই তারা তাদের বিবাহযোগ্যা কন্যার সি.ভি. নিয়ে এসে হাজির হয় 'মিলনে জীবন' দপ্তরে। এরপর সংগঠন সংগঠিত হয়ে চারজন উপযুক্ত ছেলের খোঁজ করে এবং তাদের মধ্যে সুপারলেটিভ ডিগ্রির উপযুক্ত ছেলের সঙ্গেই মেয়েটির বিয়ে হয়, মেয়েটির পছন্দ অনুসারে। সে এক জমজমাট ব্যাপারস্যাপার। আড়ালে যাকে সবাই বলে ‘আধুনিক স্বয়ম্বর’।


কুটুম কাটাম - সিঞ্চন দাস

কুটুম কাটাম - দেবাঙ্গী বক্সি

কুটুম কাটাম - দেবায়ন কর

পাঠকেরা যা পড়ছেন