পেশেন্ট নাম্বার ইলেভেন

অর্ঘ্যদীপ ঘোষ


নির্মীয়মাণ নাকি পরিত্যক্ত বোঝা মুশকিল। অনেক উঁচু ওই ফ্ল্যাটবাড়িটার ধার ঘেঁষে এখন একটা নাম না জানা পাখি উড়ছে। দূর থেকে তাকে চিলের মতো দ্যাখায়। দু'টো ডানা টানটান করে মেলে রেখে, সে ভেসে থাকছে বাতাসে...

আমরা যারা উড়তে পারি না একটুও, অথচ দূরদর্শনে শক্তিমান দেখে রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম আশৈশব, এমন দৃশ্যে খানিকটা বিষণ্ণতা মিশিয়ে দিই ইচ্ছে করেই। তারপর মানানসই একটা ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর খুঁজতে খুঁজতে আমরা হারিয়ে যাই অনেক দূরের কোনও দেশে।

পথে দেখি, কুয়াশা ভেদ করে, কাশবনের ভেতর দিয়ে ছুটে যাচ্ছে হোগওয়ার্টস এক্সপ্রেস... আওয়াজ হচ্ছে টংলিং টংলিং টংলিং...আর তাকিয়ে তাকিয়ে সেই চলে যাওয়াটুকু দেখছে দুই মুগ্ধ ভাইবোন। ওদের জন্য ম্যাজিক শেখার ইস্কুল থেকে চিঠি নিয়ে কোনও প্যাঁচা আসে নি কখনও।

দেখতে পাই, খরগোশের গর্তে নেমে হারিয়ে গেছে অ্যালিস নামের যে মেয়েটি, তাকে খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে শার্লক হোমস আর ডক্টর ওয়াটসন, আপাতত একটা ছোট্ট জাহাজে করে পারি দিয়েছেন টর্টুগার উদ্দেশ্যে। ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর সেই কম্পাসটা ওদের খুব দরকার।

ফটিকচাঁদকে দেখি, ঘাড়গুঁজে কাজ করে চলেছে। সাততলার ওপরে মস্ত বড় অফিস। আজ নাইট শিফ্ট ওর। ডেস্কের ওপর, ল্যাপটপের একপাশে রাখা আছে তিনটে রঙিন বল। হারুণদার দেওয়া।

পাতালঘরের দরজা ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি হোডরকে। ভূতনাথদার মহাকাশযানটা বোধহয় এতক্ষণে ঠিক পৌঁছে গেছে লিটিল প্রিন্সের ফেলে আসা সেই গ্রহে। কিন্তু অনেক খুঁজেও, লিটিল প্রিন্সকে আমি দেখতে পাই না কোথাও।

আর এইভাবে দেখতে দেখতে, দেখতে দেখতে, শুধুই বয়স বেড়ে যায় আমার। নাম না জানা ওই পাখিটার মতো, ওই ফ্ল্যাটবাড়িটার মতোই দূরের মনে হয় সবকিছুকে। তারপর, হঠাৎই, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের অমোঘ নীরবতাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে একসময়ে ডাক আসে, "পেশেন্ট নাম্বার ইলেভেন, মিস্টার দীপ..."

আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি। হলদে পাখির পালক, কোনও ওষুধের দোকানে পাওয়া যায় না আজও।

অলংকরণ : হিমাদ্রি নায়ক

পাঠকেরা যা পড়ছেন