ফেলুচরিত ৫০ - প্রতীক কুমার মুখার্জি

অলংকরণ : সুমিত রায়
সাপ লুডোয় পাখোয়াজ ছিল শ্রী ভবানন্দের চেলা...
তোমার বুদ্ধিই করলো সাঙ্গ তার ইহজীবনের খেলা।

দার্জিলিঙে রাজেনবাবুর ডেরায় তুমি দিলে যেই হানা...
মুখোশের আড়ালে তিনকড়িবাবু, তোমার কাছেই জানা।

কাশীতে মছলিবাবা আঁশ দিয়ে মেটাচ্ছিলেন আশ...
তুমিই শেষে দিলে ভেস্তে মগনলালের প্রাইভেট সার্কাস!

নওলখা হার করলো পাচার লাইফ ডিভাইনে গোরে...
ল্যাজেগোবরে হল সেও তোমার মগজাস্ত্রের জোরে।

হাতাবে প্রাচীন পান্ডুলিপি তাই বাক্স হল হাওয়া...
চোর ধরতে সেই তিনমূর্তির একত্রে সিমলা যাওয়া।

শিকার করতো একজন, নাম হত অন্য লোকের—
ফোকলা ফকির ফাঁস, তোমার লক্ষ্যভেদ পাখির চোখের!

বিরল প্রতিভা ছোট্ট ছেলের, তার হল প্রাণ সংশয়,
হারালে তারক, গাওয়াঙ্গীকে - তুমি সদাই অকুতোভয়...

ভূস্বর্গেও তোমরা রেখে এলে অকল্পনীয় সব কীর্তি...
সারা দেশ জুড়ে সাফল্য ধরে রাখল তিনমূর্তি।

মূর্তি পাচার রুখতে সোজা পৌঁছলে যে কৈলাস
ছদ্মবেশে করলে কিস্তিমাৎ—বাকিটা ইতিহাস!

তিনটি শ্যামাপোকার জোরে তুমি এবার শানালে নিশানা,
টিনটোরেটোর যীশু খুঁজে পেল তার আসল ঠিকানা...

লখনউ এর ভুলভুলাইয়া তোমার কাছে স্রেফ সরল সাধা...
এতো বুদ্ধি, পর্যবেক্ষণ কি সত্যি... না এও এক ধাঁধা?

বহু জায়গায় রেখেছ গড়ে অনন্য কীর্তির চালচিত্তরে,
একমেদ্বীতিয়ম—পঞ্চাশ উত্তীর্ণ—স্রীমান ফেলু মিত্তির!

সবার শেষে প্রণমি তোমায় বাক্যে, মনে, কায়—
গুরুদেব তুমি, পরমপূজ্য, মহামতি সত্যজিৎ রায়!

পাঠকেরা যা পড়ছেন