প্রজেক্ট এন্টিহার্প - প্রদীপ কুমার বিশ্বাস

অলংকরণ - মৈনাক দাশ

তিন দিন আগে শুরু হয়েছে অতি তীব্র মাত্রার ভু- চৌম্বকীয় অস্থিরতা বা চৌম্বকীয় ঝড়। সেদিনের ঝড়, আজ বিকেল থেকেই চরম তুফানে পরিণত হয়েছে। সবকটা ম্যাগ্নেটোমিটারের স্বয়ংস্ক্রিয়- মাপক শুধু সেটাই দেখাচ্ছে তাই নয়, ডঃ শশাঙ্কের চেম্বারের অত্যাধুনিক কম্পিউটারের বিশাল পর্দায়, উচ্চ শক্তির স্বয়ংস্ক্রিয় জিপিএস নিয়ন্ত্রিত অঙ্কন যন্ত্র ক্রমাগত তার সংকেত যন্ত্রগণকে পাঠিয়ে একদম চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর মত করে, ভূ-মানচিত্রে অবস্থান এঁকে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে এই চৌম্বকীয় ঝড়ের গতি, বিস্তার আর দিক নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এই পৃথিবীর এক অতি শক্তিশালী দেশের মহাকাশ কেন্দ্রের প্রজেক্ট হার্পের অত্যাধুনিক পরীক্ষাগার থেকে।

কয়েকবছর আগে এই অতি শক্তিশালী দেশের একদল গবেষক বায়ুমণ্ডল এবং তার অনেক বেশী উচ্চতায় আয়নমণ্ডলের গতিপ্রকৃতি জানবার জন্য হার্প নামে একটি প্রযুক্তির আবিস্কার করেন। এই প্রযুক্তিতে বড় বড় ছাতার মতো অতি শক্তিশালী ট্রান্সমিটার বা প্রেরকযন্ত্রগুলো দিয়ে অতি উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় শক্তি পাঠানো হয়, সোজা আয়নোস্ফিয়ারের উচ্চ সীমায় যা সেখানে আয়নোস্ফিয়ারের দরকারি তথ্য নিয়ে ফিরে আসে উচ্চশক্তির গ্রাহকযন্ত্রে। আপাতদৃষ্টিতে এই নিরীহ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের সাথে সেই শক্তিশালী দেশের প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানীরা, জুড়ে দিলেন চৌম্বকমণ্ডলীতে সুনিয়ন্ত্রিত উপায়ে অস্থিরতা করবার ক্ষমতা।

সেই সময়টায় ডঃ শশাঙ্ক তার পরীক্ষাগারে বারবার হঠাৎ করে ওঠা কয়েকদিনব্যাপী চৌম্বক ঝড়ের কারণ অনুসন্ধান করছিলেন। এই সমীক্ষার সাথেই তাঁর কাছে বর্তমানে দেশের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বেড়ে ওঠবার কারণ অনুসন্ধান করবার সমীক্ষার অনুরোধ বিজ্ঞান মন্ত্রকের কাছ থেকে আসে। সমীক্ষা চলবার সময় তিনি এবং তাঁর সহকারী বৈজ্ঞানিকেরা এক চাঞ্চল্যকর বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ করেন। এইসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের উৎসে রয়েছে হঠাৎ করে ওঠা তীব্র চৌম্বকঝড়। ডঃ শশাঙ্কের উদ্ভাবিত জিওসেন্সর রেকর্ডারে ধরা পড়ে গেল যে চৌম্বকঝড় এতোটাই সুনিয়ন্ত্রিত যে সেটি তৃতীয় বিশ্ব এবং ভারতের মতো উন্নতিশীল দেশেই হবে এবং বন্দুকের ঘোড়ার মতো সেটির মাত্রাভেদে, উন্নতিশীল দেশের ইউরেসিয়ান প্লেটের সাথে লাগোয়া ইন্ডিয়ান, বারমা, আফ্রিকান, সোমালি প্লেটগুলিতে ভূমিকম্প, হড়কা বান, বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়। তাঁরা দেখলেন যে চৌম্বক ঝড়ের উৎসে আছে একটি শক্তিশালী দেশের হার্প প্রযুক্তির দুষ্প্রয়োগ, যার ফলে আয়নমণ্ডলের একটি বিশেষ মাত্রার তরঙ্গদৈর্ঘ্য চলে যাবে তার সংলগ্ন চৌম্বকমণ্ডলের পূর্ব-নির্ধারিত অঞ্চলে যার ফলে ইউরেসিয়ান প্লেটগুলির সংলগ্ন যে কোনো প্লেটে সুনির্দিষ্ট মাত্রার চৌম্বকঝড় ঘটানো যাবে। কিন্তু এই পর্যবেক্ষণগুলি সব কটি অপ্রত্যক্ষ হওয়ায় তাঁদের রিপোর্ট চলে যেত হিমঘরে যদি না এই প্রজেক্ট শুরু হবার বেশ কয়েক বছর আগে ডঃ শশাঙ্কের সাথে বেশ রহস্যময়ভাবে দেখা হয়ে যেত অনির্বাণের সাথে। এই অনির্বাণ আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মত নয়। সে তার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে কেমালাস্কার সামরিক সদর দপ্তরে গিয়ে দেখে এসেছে, বড় বড় ছাতার মতো অতি শক্তিশালী ট্রান্সমিটার প্রেরকযন্ত্রগুলো দিয়ে অতি উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় শক্তি পাঠানো হচ্ছে সোজা আয়নমণ্ডলের উচ্চ সীমায়। সেই শক্তি, সেইখানে কোনো সাংকেতিক ক্লাউড চেম্বারে সঞ্চিত করা হচ্ছে। দরকার হলে সেই সঞ্চয়ের থেকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ, সেইখান থেকে মুক্ত করে চৌম্বকমণ্ডলীর এক সুনির্দিষ্ট অঞ্চলে আঘাত করলেই সেখানে যে আলোড়ন হবে, সেটা এইখানের বেতারগ্রাহক যন্ত্র, নির্দিষ্ট স্থানে আঘাত করতে পারা মিসাইলের মতো, স্থানাঙ্ক মান দিয়ে পাঠাতে পারে পূর্ব নির্দিষ্ট দুটি প্লেট বাউন্ডারির কাছাকছি জায়গায়। এই আলোড়নে জন্ম নেয় ভূমিকম্প আর হড়কা বানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

এই গোপন প্রায়োগিক কৌশলটি ডঃ শশাঙ্ক এবং তাঁর দলবল পরীক্ষাগারে যাচাই করবার পর শুরু করে দিলেন প্রজেক্ট এন্টিহার্প। শুরুতে এর উদ্দেশ্য ছিল হার্পের প্রভাব থেকে ইন্ডিয়ান প্লেটকে বাঁচানো কিন্তু পরে দেখা গেল এর সাথে হার্পের প্রভাব থেকে দেশের কিছু কল্যাণও করে নেওয়া যায়। যন্ত্র আবিস্কারের পর সমস্যা হল, একে অতি দুরূহ জায়গাতে প্রতিস্থাপন করা। নিজের বিশেষ ক্ষমতাকৌশলকে কাজে লাগিয়ে, দুরূহ জায়গাতে যন্ত্র-স্থাপনার অসাধ্য কাজটিও করবার দায়িত্ব এই অনির্বাণ নিয়েছে। সে এখন ঠিক কোথায় আছে আর স্থাপনার কাজটি কতদূর এগিয়েছে, সেটা তাঁর আবিষ্কৃত বস্তু অনুসন্ধানী যন্ত্র খুব নিখুঁত ভাবে বলে দিতে পারে। কিন্তু অনির্বাণ সাধারণ মানুষ নয়। সে এটা জেনে ফেলবেই এবং বিরক্ত হতে পারে। যদিও তিনি বুঝতেই পারছেন যে তিন দিন ধরে চলা এই অস্বাভাবিক দীর্ঘস্থায়ী চৌম্বকঝড়েও এই উপমহাদেশের কোনো জায়গায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসেনি, তখন তাঁদের এন্টিহার্প যন্ত্রকে অনির্বাণ সাফল্যতার সঙ্গেই স্থাপনা করেছে। কিন্তু এই যন্ত্রের আর একটি কাজ ছিল, তা এখনো ডঃ শশাঙ্ক এবং তার দলের কাছে অজানা। প্রমাণসমেত সেই কাজের সাফল্যতার খবর একমাত্র অনির্বাণই বলতে পারবে।

পরপর দুটো বিপ শব্দ এল। প্রথমটা একটা সংকেত। আর একটু পরেই সাংবাদিক সম্মেলন, প্রথম বিপে সেটা তাঁকে মনে করিয়ে দেওয়া হল। তিনি একটু বিরক্ত হলেন। পরেরটা একবার বিপ করে আর তারপর একের পর এক মোর্স কোডে অনির্বাণের পাঠানো সংবাদে তিনি জানতে পারলেন যে তাঁদের এন্টিহার্প যন্ত্র ভূমিকম্পের চক্রান্তই নষ্ট করেনি, সেই চক্রান্তকে বদলে দিয়ে তাকে দিয়ে দেশের জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে দিতে পেরেছেন। তিনি এতোটাই খুশী হলেন যে প্রথম বিপটার তেতোভাব তার মন থেকে মুছে গেল।

প্রফেসর এমেরিটাস, ডঃ শশাঙ্ক বিশিষ্ট ভূ-বিজ্ঞানী। সরকারি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষ অনুদানে, অনেকটা জমি নিয়ে, উত্তর-পূর্বে লোকালয় থেকে অনেক দূরে এক অরণ্যের প্রায় শুরুতে ভূবিজ্ঞানে উচ্চতর গবেষণার জন্য এই ল্যাব বানিয়েছেন। ল্যাবের চারপাশে, বিশাল প্রাকৃতিক হ্রদ আর তার উত্তরপাড়ে আছে ঘন জঙ্গলে ঘেরা এক উঁচু পাহাড়। অত্যাধুনিক রাসায়নিক এবং ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণী যন্ত্রের খবর রাখা এবং সুযোগ পেলেই তার চাইতেও শক্তিশালী এবং এই দেশের আবহাওয়ার সাথে মানানসই যন্ত্র বানিয়ে ফেলা ওনার প্রিয় নেশা।

সম্মেলনের শুরু করলেন আজকের সংবাদের মুখ্য সাংবাদিক, “স্যার, এই প্রত্যন্ত কিন্তু অপরূপ প্রাকৃতিক অঞ্চলে আপনি যে অত্যাধুনিক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন পরীক্ষাগার গড়ে তুলেছেন তা আমরা ঘুরে ঘুরে দেখে হতবাক হয়ে গেছি। আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহন করুন।”

ডঃ শশাঙ্ক বললেন, “আপনারা অনেক দূর থেকে এসে আমাদের এই ছোট ল্যাব মন দিয়ে দেখেছেন তাতে আমরা আপ্লুত। তবে যা আমার গড়ে তুলেছি তা কোনো একজনের কৃতিত্ব নয়, আমারা সবাই মিলে একসাথে পরিশ্রম করেছি সমান ভাবে।”

বিজ্ঞান সংবাদ পত্রিকার অঙ্কিতা বললে, “ডঃ শশাঙ্ক, এই ল্যাবে দেখলাম বেশ কিছু উল্কা পাথর। এও জানলাম যে আপনি ভূবৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং তথ্য দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে এই বিশাল লেক উল্কাপাথর পতনের ফলেই উৎপত্তি হয়েছে। আমরা এর চাইতে বেশী আশ্চর্য হয়েছি এই জেনে যে এই প্রাকৃতিক লেকের তলায় অনেক গভীরে আছে এক হিমবাহ যার এখনো পূর্ণমাত্রায় বহাল তবিয়তে অটুট আছে। এইটা কীভাবে সম্ভব হচ্ছে?”

ডঃ শশাঙ্কের ইশারায় তার সহকারী চেতন বলে, “বহু পূর্বে অর্থাৎ আজ থেকে চৌত্রিশ মিলিয়ন বছর আগে, কোয়াটারনারি যুগে এইখানে ছিল এক হিমবাহ। এই বরফের নদীটির নিচে ছিল থারমাইট নামে অতিমাত্রায় তাপ কুপরিবাহী একটি পুরু পাথরের স্তর। উল্কা পতনের আগে, এক বড়মাত্রার চ্যুতির ফলে এই হিমবাহটি চলে যায় ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দু’হাজার ফুট নিচে এবং তখন হিমবাহের ওপর আর একটি অতি পুরু থারমাইট পাথরের স্তর চেপে বসে। অর্থাৎ দুটি অতি কুপরিবাহী পাথরের স্তরের মাঝে এই হিমবাহটি থাকায় এটির বরফ আজও গলেনি।”

চেতনের কথা শেষ হতেই নেমে আসা মিনিট খানিকের সশ্রদ্ধ নীরবতা ভেঙ্গে নিউজ টুডের দেবপ্রিয় বলে, “এই থারমাইট পাথর আপনাদের মিউজিয়ামে দেখিনি বলেই মনে হচ্ছে।”

ডঃ শশাঙ্ক দেবপ্রিয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, “শুরুতে হিমবাহের ওপরে এবং নিচে এই কুপরিবাহী এবং পুরুস্তরের পাথর আর হিমবাহ ভূমিতলেই ছিল। উল্কাপাথর নামবার সাথে সাথেই বিশাল এলাকা জুড়ে একটি প্রবল ভূমিকম্প এবং তার একটি বড় মাপের চ্যুতি হয়। এর ফলে ভূমিতলের গভীর নিচে পাথরের স্তর ভূমিতলে উঠে আসে। তাই থেকে এই পাহাড়ের সৃষ্টি হয়। ঠিক সেই ভাবেই হিমবাহ আর তার ওপরে- নিচে থাকা কুপরিবাহী পাথরের স্তর চলে যায় ভূমিতলের গভীর নিচে। প্রায় দু’ কিলোমিটাররে বেশী গভীরে।”

চেতন বলে, “আমাদের অনুসন্ধানী যন্ত্রে এদের অস্তিত্ব ধরা পড়লেও, এতো গভীরে ড্রিলিং করবার অর্থ আমরা পাইনি। সেজন্য থারমাইট পাথরের কোনো নমুনা আমাদের মিউজিয়ামে নেই।”

অঙ্কিতা প্রশ্ন করে, “ভূমিকম্প হলে আমরা প্রায়ই শুনি যে এই জন্য আপনারা প্লেটের অস্থিরতাকে দায়ি করেন। এই প্লেট কী জিনিষ? এর সাথে ভূমিকম্পের কী যোগ আছে?”

চেতন জবাবে বলে, “এগুলি কাল্পনিক বিশাল আকৃতির থালা যার ওপর পৃথিবীর মহাদেশগুলি ভাসছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভারতীয় প্লেট। এই প্লেটগুলির নিজেদের মধ্যে বা যখন একটি প্লেট অন্য প্লেটের কাছে আসতে চায় বা তার নিচে চলে যেতে চায় তখন এই অস্থিরতা থেকে ভূমিকম্প হয়।”

‘আজকের সংবাদে’র মুখ্য সাংবাদিক এতক্ষণ মন দিয়ে শুনছিলেন। নিজের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমরা অনেক নতুন নতুন এবং চমকপ্রদ জিনিষ জানলাম এখানে এসে। যেতে যেতে একটা প্রশ্ন করি, আমরা লক্ষ করলাম যে এই পরীক্ষাগারের সব কাজ এখন স্থগিত রাখা হয়েছে, হঠাৎ করে আগত ভূচৌম্বক ঝড়ের কারণে। আমরা এবং অনেক পাঠক জানতে চান যে এই ভুচৌম্বক ঝড় কী জিনিষ? সেটি এই অঞ্চলেই এত সক্রিয় কেন?”

ডঃ শশাঙ্ক বললেন, “ভূ-চৌম্বকতার তীব্রতার মান যখন খুব কমবেশি হতে থাকে সেই অবস্থাকে আমরা চৌম্বক ঝড় বলি এবং এতে আমাদের অনেক সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতির মাপকের বা ক্যালিব্রেসনের খুব ক্ষতি হয়। এই কারণে সাময়িক ভাবে পরীক্ষাগারের কিছু কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।”

অঙ্কিতা বলে, “স্যার একটা শেষ প্রশ্ন। এশিয়া মহাদেশে যেখানে যেখানে এটি ইউরেসিয়ান প্লেট সীমান্তের কাছে এসেছে সে সব দেশেই ভূমিকম্প, হড়কা বান, এবং বজ্রপাত হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। কোনো কোনো বৈজ্ঞানিকের ধারণা যে এটি উন্নত দেশগুলির বৈজ্ঞানিক চক্রান্ত অর্থাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলি প্রকৃতিও করতে পারে আবার এটি মনুষ্যসৃষ্টও হতে পারে। এই সম্বন্ধে আপনি কী বলেন?”

কয়েক মুহূর্তের জন্য ডঃ শশাঙ্কর কপালে বেশ কয়েকটা ভাঁজ পড়লো এবং তিনি চেতনের দিকে একবার তাকিয়ে কিছু ইশারা হয়তো করলেন। খুব দ্রুত ভেবে নিলেন এই প্রশ্নের কী উত্তর দেবেন। “দেখুন, কোনো বৈজ্ঞানিক এমন চেষ্টা করে দেখতেই পারেন। কিন্তু তাতে সফল হতে গেলে বেশ কয়েকটা প্রায়োগিক নৈপুণ্যের স্তরে উঠতে হবে।”

ডঃ শশাঙ্কের উত্তর শেষ হতেই চেতন বলে ওঠে, “সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আর কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি ভিডিও কনফারেন্সে আমাদের থাকতে হবে। আপনাদের স্টেশনে ছেড়ে আসবে আমাদের গাড়িগুলো।”

নিজের চেম্বারের লাগোয়া ওয়াসরুমে এসে বেশ কয়েকবার ঠাণ্ডা জল চোখেমুখে দিয়ে তবে ধাতস্থ হলেন ডঃ শশাঙ্ক। আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে বিশেষতঃ অঙ্কিতার বেশ কয়েকটা কথার উত্তর তাঁকে এড়িয়ে যেতে হয়েছে। যদিও এইসব প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সমেত উত্তর দিতে পারতেন। কিন্তু তাতে বিদেশী শক্তিধর রাষ্ট্রের সামনে তাঁর দেশকে অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হত। তাঁর নিজের বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণাও গোপনীয়তা হারাতো ঠিক যখন তাঁদের আবিস্কার ও কৌশল প্রায় চূড়ান্ত ধাপে।

কিন্তু সেই ধাপে আসতে তিনি ও তাঁর দলের বিজ্ঞানীরা এবং অনির্বাণের নিরলস চেষ্টা চলেছে বেশ অনেকদিন ধরে। বস্তুতঃ দু’বছর আগে অনির্বাণের সাথে তাঁর দেখা না হলে এই আবিস্কারের পরিকল্পনা ডঃ শশাঙ্কের মাথায় আসতো না। সেই সময়টায় ডঃ শশাঙ্ক খুব কম লোকবল নিয়ে তাঁর গবেষণার কাজে প্রায় একাই এই অঞ্চলে উল্কাপাথরের অনুসন্ধান করছিলেন। এই কাজে তাঁকে প্রায় যেতে হত লেকের ধারের পাহাড়ের কাছে। আর এই করতেই তাঁর সাথে দেখা হয়ে যায় এক অদ্ভুতদর্শন ব্যাক্তির সঙ্গে। এর আসল নাম অন্য কিছু, অনির্বাণ নামটি তাঁর দেওয়া।

আগের রাত্রে ঝড়বৃষ্টির দরুন তাঁর সহকর্মীরা কেউ কাজে আসেনি। পিঠে ভারী যন্ত্রপাতির ব্যাগ আর ভারী সিন্টিলেসন কাউন্টার হাতে নিয়ে পাহাড়ে চড়তে তাঁর বেশ কষ্ট হচ্ছিল। পাহাড়ের শিখরের কাছে আসতেই দেখলেন, তাঁর চেনা দেবদারুর জঙ্গলের একদম ভেতরের দিকে বেশ কটা গাছ কে যেন কেটে নিয়ে ধরাশায়ী করে দিয়েছে। চূড়ার কোলের কাছে যে বিশাল সমতল ভূমি আছে, তার কেন্দ্রের বিশাল অশ্বত্থ গাছের কাছে, একটি বৃত্তাকার অংশের মাটি বসে গেছে। সেখানে ধোঁয়াটে মত কিছু একটা আছে বলে তিনি আন্দাজ করলেন।

এই জায়গাটার কাছে পৌঁছাতেই, তাঁর সাথে থাকা পকেট ইউ ভি সিগন্যাল রিসিভার, ইলেকট্রোম্যাগনেট কাউন্টার, বিপ বিপ করে তাঁকে সাবধান করলো। তিনি বুঝলেন যে কিছু একটা শক্তি তাঁকে ওই বৃত্তের কাছে হিড়-হিড় করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁর চেতনা লুপ্ত হচ্ছে ধীরে ধীরে। হঠাৎ কী মনে করে, সিন্টিলেসন কাউন্টারের রিমোট রিসিভার চালু করবার ডিজিটাল কোড টাইপ করবার চেষ্টা করলেন। এইটা করতেই দেখলেন ধোঁয়া সরে যাচ্ছে, কিছু একটা আবছা ছায়ামূর্তির মত প্রকট হচ্ছে।

দীর্ঘকাল অরণ্য-জীবনে কাটাবার সময়, অনেক বিপদের মোকাবিলা করবার পুরানো অভ্যাসের ফলে, এখনো অবিচল চিত্তে দেখতে লাগলেন কী হয় এরপর। মিনিট-খানেক পরে দেখলেন এক সুদর্শন পুরুষ এসে তাঁর থেকে একটু দূরে একটা বড় পাথরের ওপর বসলো।

পাকা কমলালেবুর মত লোকটির গায়ের রঙ, গায়ে উজ্জ্বল নীল রঙের লম্বা আলখাল্লা। মাথায় আর্চবিশপদের মতো টুপি, তার একপ্রান্তে একটি উঁচিয়ে থাকা একটি তারের মতো বস্তুটি এন্টেনা হতে পারে। এই এলাকায়, বছরের এই সময়টায়, বহুরূপীরা দলবদ্ধ হয়ে গ্রাম-গঞ্জে শো করে মোটা পাওনার আশায়। এরাই স্বর্গের দেব-দেবীর ভাড়া করা পোষাকে ঘুরে বেড়ায়। তাঁর মনে হল, এই লোকটি কোনোভাবে দলছুট হয়ে এইখানে লুকিয়ে আছে। ওই ধোঁয়াটা ম্যাজিক হতে পারে। এই লোকটির সাথে তাঁর যন্ত্রপাতির পাওয়া সিগন্যালের কোনও সম্পর্ক নেই।

তিনি সেখান থেকে উঠে আসবার উপক্রম করতেই, লোকটি তাঁর দিকে তাকিয়ে বলে, “আমার শরীরটি আপনি পুনর্গঠিত করেছেন। সেইজন্য আপনাকে ধন্যবাদ।” বহুদিন কেউ ডঃ শশাঙ্কের সাথে রসিকতা করবার চেষ্টা করেনি। তিনি এই কথায় বেশ মজা পেলেন। কৃত্রিম সবিনয় ভঙ্গিতে লোকটিকে জবাব দিলেন, “আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি না। আমি একজন সাধারণ মানুষ। শরীর পুনর্গঠন আমি করতে জানিনা। হয়তো তান্ত্রিক সাধুরা করে থাকতে পারেন!”

লোকটি হেসে বলে, “ডঃ শশাঙ্ক, একটু আগে আপনার সিন্টিলেসন কাউন্টারের রিমোট বোতামগুলি ক্রমান্বয়ে টিপে, অঙ্কের ভাষায় আপনি যে রেডিও সিগন্যাল পাঠিয়েছেন সেইটাই আমার শরীরের জ্যামিতিক মডেল। রেডিও সিগন্যালে সেই সঙ্কেত আসা মাত্র আমার শারীরিক আকার আবার গড়ে নিতে আর সময় লাগেনি।”

ডঃ শশাঙ্কের অনুভূতিপ্রবণ মনের শক্তিশালী অনুমান ক্ষমতা, তাঁকে বারবার বলতে লাগলো এই লোকটি কোনোভাবেই দলছুট বহুরূপী হতে পারে না। একে ব্যঙ্গ বিদ্রূপ বা অবহেলা না করে বরং একে একটু বলতে দেওয়া উচিত। তাঁর হাতে যে রিমোট প্যানেলটি ছিল সেটি কোন ধরনের যন্ত্রের জন্য, এইটাই আমাদের দেশে হাতেগোনা কয়েকজন বলতে পারবে। সেইটা যে অঙ্কের ভাষা তাতেই বোঝা যাচ্ছে ইনি বেশ উচ্চশিক্ষিত কিন্তু এইরকম অদ্ভুত দর্শন কেন? ডঃ শশাঙ্ক লোকটিকে আরো একটু যাচাই করবার জন্য জিগ্যেস করলেন, “আপনি বলছেন যে আপনার শরীর এইমাত্র আমার সিন্টিলেসন কাউন্টারে…”

লোকটি ওনাকে শেষ না করতে দিয়েই বলে উঠলো, “আমার বিষয়ে কিছু প্রাথমিক বিষয় যদি বলার সুযোগ দেন তবে আমি সবকিছু পরিষ্কার করে আপনাকে জানাতে পারি।” লোকটির বিনয়ে মুগ্ধ হয়ে ডঃ শশাঙ্ক বললেন, “নিশ্চয়, নিশ্চয়। বলুন প্লিজ।”

কালকের রাতের কিছু মেঘ এখনো বিদায় নেয়নি। লোকটি একবার আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে, “আমাকে মানুষের মতো দেখতে হলেও আমি প্রকৃতপক্ষে পুরোপুরি মানুষ নই। আমার এইটুকু খুব ঝাপসা মনে আছে যে এক দুর্ঘটনায় আমি আহত হয়ে সংজ্ঞালুপ্ত হচ্ছি। জ্ঞান ফিরলে দেখি এক বিরাট হসপিটালে শুধু আমি একা। কয়েকজন ছুরিকাঁচি বিহীন সার্জেন আমাকে ঘিরে আমার শরীরে নানারকম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বসিয়ে যাচ্ছেন। এরপর আবার আমার যখন জ্ঞান ফেরে আমার বেডের কাছে রাখা একটি স্পিকারে শুনি এক কণ্ঠ। ‘ওই দুর্ঘটনার পর তোমার মৃত শরীরে আমরা কৃত্রিম যন্ত্র লাগিয়ে দিয়েছি। সেগুলি আর কিছুসময় পরেই কাজ করতে শুরু করবে। তুমি এখন এক অতি শক্তিশালী বর্ণসংকর যন্ত্রমানব। তোমার অতি শক্তিশালী মস্তিস্ক আমাদের পাঠানো যে কোনো ইচ্ছে নিজেই করে ফেলতে পারে। তোমার মধ্যে অনেক রকমের শক্তি দেওয়া হয়েছে যেমন তুমি তোমার ইচ্ছে অনুযায়ী কয়েক লহমার মধ্যে দৃশ্যমান থেকে অদৃশ্য এবং তার উল্টোটা, কোনো ব্যাক্তি বা বস্তুর দিকে তাকিয়েই তার সম্পর্কে সব কিছু জেনে ফেলা বা হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে এমন অনেক জায়গায় পৌঁছে যাওয়া যেখানে কোনো জীবিত, মৃত বা জড় বস্তু প্রবেশ করতে পারে না। এইরকম আরো অনেক কিছু শক্তি যা তুমি নিজেই জানতে পারবে। আমরা কোনো দরকারে পড়লে তোমার কাছে অনুরোধ জানাতে পারি মাত্র। সেটি করা বা না করা তোমার নিজস্ব ইচ্ছা।’…”

ডঃ শশাঙ্ক হতবাক হয়ে দেখছিলেন যে সাইবারবর্গ বা রোবোমানব এক নেহাতই কাল্পনিক গল্প নয়, সত্যি- সত্যি সেইরকম একজন কি তাঁর সামনে এসে দাঁড়িয়েছে? কিন্তু তিনি আরো যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে বললেন, “আমি ডঃ শশাঙ্ক...”

রোবো মানব তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তাঁর কথার বাকিটা নিজেই গড়গড় করে বলে গেল, “আপনি একজন ভুবনবিখ্যাত ভূ-বৈজ্ঞানিক। আপনার সাম্প্রতিক আবিষ্কারের মধ্যে অন্যতম হল যে উল্কাপতনের ফলে এই প্রাকৃতিক লেক এবং পাহাড়ের ভেতর এক গুহা তৈরি হয়েছে। আপনি আরো আবিষ্কার করেছেন যে এই সুড়ঙ্গের শেষ দিকে এক বিশাল অতি গভীর গহ্বর আছে যা আসলে একটি চ্যুতি বা ফল্ট এবং এটি ইন্ডিয়ান ও ইউরেসিয়ান প্লেট সীমারেখায় যে পর্বতশ্রেণী নির্মাণকারী ফল্ট আছে তার একটি অংশ।”

ডঃ শশাঙ্ক এবার বেশ কিছুটা মেনে নিলেন যে তাঁর সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে সে হয়ত রোবো মানব হতে পারে। তিনি বললেন, “আপনার নাম এখনো আমার জানা হয়নি।”

রোবোমানব বলে, “আপনারা নাম দিয়ে নিজের-নিজের পরিচিতি করেন। আপনি যে সিগন্যাল পাঠিয়েছেন সেইটাই আমার পরিচিতি বা আপনাদের ভাষায় নাম।”

ডঃ শশাঙ্ক বললেন “অত বড়ো আঙ্কিক সঙ্কেতের বদলে আমি কি আপনাকে অনির্বাণ বলে ডাকতে পারি?”

অনির্বাণ বলে, “স্বছন্দে।”

“অনির্বাণ আপনি আপনার নিজের ক্ষমতায় অদৃশ্য হয়েছিলেন। সেটা কী কারণে আমি কি জানতে পারি? কিন্তু পরে আবার কী কারণে দৃশ্যমান হয়ে উঠলেন ?”

“ডঃ শশাঙ্ক, আমায় যারা নির্মাণ করেছেন, তাঁরা আমায় এই পাহাড়ের গুহার শেষ প্রান্তের গহ্বরের একদম গভীরতম জায়গার পাথরগুলির নমুনা নিয়ে আসতে অনুরোধ করেছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর জন্য আমি অদৃশ্য হই এবং সেখানে পৌঁছে আমার ক্ষমতা প্রয়োগ করে সুপার লেজার ড্রিল চালিয়ে নিয়ে আসি গহ্বরের গভীরতম স্তরের পাথর এবং সেখানের হিমবাহের জলের নমুনা।”

ডঃ শশাঙ্ক মনে মনে বলছিলেন তুমি যদি প্রতারণা করবার চেষ্টা কর তাহলে এইবার ধরা পড়বে। আমার ভূ-পদার্থ যন্ত্র পাথর আর গ্লেসিয়ারের ছবি আর তাদের গুণাগুণের খবর নিয়ে এসেছে। অনির্বাণ তাঁর আলখাল্লা থেকে এবার চকচকে কালো রঙের পাথর, ধুসর সাদা কোয়ার্টজ পাথর আর একটি পাথরের বোতল বার করে বলে, “স্যার এই হল গ্লেসিয়ারের ওপর আর নিচে থাকা আপনার নাম দেওয়া থারমাইট, এছাড়া কোয়ার্টজ পাথর আর এই পাথরের বোতলে আছে হিমবাহের জল। এইগুলি সব আপনি এখন রাখতে পারেন। আমি পরে আপনার কাছে এসে এই নমুনাগুলোর কিছুটা নিয়ে যাবো।”

নমুনাগুলো ডঃ শশাঙ্ক দেখবার পর অনির্বাণ বলে, “আমি এই কাজে এতটাই নিমগ্ন হয়ে গেছিলাম যে আমার শরীরের সোলার ব্যাটারি যে দুর্বল হয়ে আসছে সেদিকে নজর দিইনি। ওখান থেকে ফিরে এসে, সূর্যের আলোতে অনেকক্ষণ ঘুরে বেরাবার পর তবে আমার স্মৃতি ঠিকঠাক কাজ করতে পারতো। আপনি আসায় আমার কাজটা অনেক সোজা হয়ে গেল। এখন আর একটি কাজে আমায় যেতে হবে। ফেরার পথে কেমালাস্কার ডিফেন্স ল্যাবে গিয়ে একবার দেখেও আসব হার্পের শয়তানি চক্রান্ত। দেখা হবে তখন আপনার ল্যাবের দোতলায়।”

অনির্বাণ অদৃশ্য হবার পর, ডঃ শশাঙ্ক তাঁর ল্যাব এবং আবাসে ফিরে যাবার সময় ভাবছিলেন, কেমালাস্কার এই কেন্দ্রটির নাম প্রজেক্ট হার্প বা হাই ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাক্টিভ অরোরাল রিসার্চ প্রোগ্রাম। এর উদ্দেশ্য কমিউনিকেশন বিজ্ঞান-বিষয়ক গবেষণা করা। এতে সেই সুসভ্য উন্নত দেশের সামরিক বিজ্ঞানীরা কীভাবে নাক গলাতে পারে বা প্ল্যান ঢোকাতে পারে এশিয়া আর অন্যান্য মহাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ করিয়ে? একটা উদ্দেশ্য হতে পারে যে এইসব দুর্যোগে জর্জরিত হয়ে, এই দেশগুলো যেন মাথা তুলতে না পারে, ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে আসে তাদের কাছে।

নিজের ল্যাবে পৌঁছে তাঁর শ্রেষ্ঠ সহকারী অর্পণ’কে ডেকে থারমাইট আর স্ফটিকের নমুনা বস্তুগুলি দিয়ে বললেন “সব কাজ ছেড়ে, এদের ফিজিক্যাল আর কেমিক্যাল এনালিসিস করাও জলদি আর আমাকে রিপোর্ট দাও। চৌম্বক ঝড় সিমুলেটরে খুব উচ্চ শক্তির তরঙ্গ পাঠাও এদের ওপর, এরা কী রকম সাড়া দ্যায় সেইটা জানা খুব জরুরি।”

অর্পণ চলে যাবার সময় উনি চাপা কণ্ঠে বললেন, “বাকি স্টাফকে ঝড়-জল নামতে পারে বলে ছুটি দিয়ে দাও। তোমার ল্যাবের দরজা ভালভাবে বন্ধ করে, তবেই এই সিমুলেসন এক্সপেরিমেন্ট শুরু করবে।”

অর্পণ আধঘণ্টার মধ্যে জানালো, “স্যার প্রথমটা তাপের অতি কুপরিবাহী থারমাইট পাথর। সিমুলেটরের তৈরি চৌম্বক ঝড় এর ওপর আছড়ে পড়লে, তাপের অতি কুপরিবাহী এই চরিত্রটি বজায় থাকে। কিন্তু সেইসময়ে এই পাথর অতি শক্তিশালী অস্থায়ী চুম্বক হয়ে যায়। স্যার স্ফটিকগুলোর স্যাম্পল’তো কোয়ার্টজের কিন্তু এগুলো স্ট্রেস বা ম্যাগনেটিক স্ট্ররম জেনারেটরের আওয়তায় পড়লে, অতি উচ্চ মাত্রার অল্টারনেটিং বিদ্যুৎ তৈরি করছে।”

ডঃ শশাঙ্ক বললেন, “অর্পণ, থারমাইটের সবকটা স্লাইস জুড়ে দাও আর তার ওপরে কোয়ার্টজ স্ফটিকের একটা বেশ পুরু স্তর তৈরি কর। অর্থাৎ আমরা এইবার প্লেট বাউন্ডারির কাছে, গভীর অভ্যন্তরে, পাথরের স্তরগুলো যে ভাবে আছে আমরা সেই অবস্থাটা ল্যাবে কৃত্রিম ভাবে তৈরি করছি। এবার কৃত্রিম চৌম্বক ঝড় সৃষ্টিকারী থেকে এর ওপর অতি উচ্চ শক্তির চৌম্বক ঝড় বইয়ে দাও। তোমায় বলার দরকার নেই, তবু মনে করিয়ে দিই যে ক্যামেরা চালু করবে সবার আগে। সব স্টাফ যদি চলে গিয়ে থাকে, তাহলে ল্যাবের দরজা খুলে দাও, আমি আসছি ওখানে। বাই দি ওয়ে, আশা করি তুমি, মাস্ক এবং বাকি সেফটি গিয়ার সব পরে নিয়েছ।”

ডঃ শশাঙ্ক নিজেও তৈরি হয়ে নিলেন, সেফটি মাস্ক মুখে লাগাতে যাবেন, এমন সময় একটা বিস্ফোরণের মতো আওয়াজ পেলেন নিচের সিমুলেসন ল্যাব থেকে, যেখানে অর্পণ কাজ করছে।

সিমুলেসন পরীক্ষাগারে গিয়ে দেখেন, মেঝেতে ছড়িয়ে আছে কোয়ার্টজ পাথরের স্ফটিকগুলো আর থারমাট পাথরের স্লাইস। দুটো পাথরই অতীব শক্তিশালী বলে তারা নিজেরা টুকরো-টুকরো হয়নি কিন্তু সিমুলেসন চেম্বারের অতি শক্ত গ্লাস- কেসিং ভেঙ্গে বাইরে ছড়িয়ে গেছে। ল্যাবের ভেতর একটি ঘেরা জায়গা আছে, মূর্ছিত অর্পণকে সেখান থেকে কোনো মতে টেনে বাইরে এনে জল ছিটিয়ে দিয়ে তাকে সুস্থ করেন।

ল্যাবের বাইরে ফুলের বাগান। এখান থেকে লেক, তার উত্তর পাড়ে ঘন সবুজ বন আর মাথা উঁচিয়ে থাকা কালো পাহাড়চুড়ো দেখতে দেখতে, এক কাপ চা শেষ করলেই সব ক্লান্তি জুড়িয়ে যায়। এইসময় তাঁরা তিনজন অর্থাৎ কেমালাস্কাতে নিজের অনুসন্ধান শেষ করে অনির্বাণ, ডঃ শশাঙ্ক এবং তার সহকারী অর্পণ ফুলের বাগানে, দেবদারু ঘেরা ছায়ার তলায় টি- টেবিল ঘিরে বসে আছেন। ডঃ শশাঙ্ক আর অর্পণ চা পান করছেন কিন্তু অনির্বাণ শুধু তার ঘ্রাণ নিচ্ছে। সূর্যের রশ্মি ছাড়া তার আর কোনো খাবারের দরকার হয় না, কিন্তু মাঝে মধ্যে এই পৃথিবীর কিছু জিনিস যেমন ফুল, বুনো পাকা কুল, চা আর লেবু পাতার গন্ধ তাকে সজীব করে তোলে।

অনির্বাণ কেমালস্কায় গিয়ে দেখে এসেছে, বড় বড় ছাতার মতো অতি শক্তিশালী ট্রান্সমিটার প্রেরকযন্ত্রগুলো দিয়ে অতি উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় শক্তি পাঠানো হচ্ছে সোজা আয়নোস্ফিয়ারের উচ্চ সীমায়। কীভাবে সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর নির্দিষ্ট প্লেট সীমানায় তোলা হচ্ছে চৌম্বক ঝড় সেটা নিয়ে বিশদে আলোচনা করছিল।

ডঃ শশাঙ্ক বলেন, “ইন্ডিয়ান প্লেটে, থারমাইট ছাড়া অনেক পাথর আছে যারা খুব ভালো চৌম্বকীয় পদার্থ। এই ধরনের চুম্বক ঝড়ে, তারা চুম্বক হয়ে এক স্তর অন্য স্তরকে ক্রমাগত আকর্ষণ-বিকর্ষণ করার ফলে উৎপন্ন স্ট্রেস প্রবল চাপের সৃষ্টি করে। ইন্ডিয়ান প্লেট বাউন্ডারির কাছে যে পুরু কোয়ার্টজ পাথর আছে যা এই থারমাইট পাথরের ঠিক ওপরে। তারা এই চাপে বিদ্যুৎ তৈরি করে তাৎক্ষণিক এই চৌম্বক শক্তিকে অনেকগুনে বাড়িয়ে তুলে অনেকটা বন্দুকের ট্রিগারের কাজ করে।”

অর্পণ বলে, “আমরা কিছুক্ষণ আগে এই ব্যপারটি ল্যাবে সিমুলেট করেছি, দেখা গেছে যে এরফলে নিচের প্লেটটি উপরের প্লেট কে আকাশের দিকে ধাক্কা মেরেছে।”

অনির্বাণ প্রায় লাফিয়ে ওঠে, “তার মানে ইন্ডিয়ান প্লেট যদি ইউরেশিয়ান প্লেট বা আর যেখানে যেখানে ইন্ডিয়ান প্লেটের সাথে অন্য প্লেটের বাউন্ডারি আছে সেখানে এইরকম গাইডেড চৌম্বক ঝড় দিয়ে ভূমিকম্প করানো যায়।”

ডঃ শশাঙ্ক বলেন, “প্লেটের হঠাৎ করে নড়াচড়ার ফলে প্রচণ্ড তাপ তৈরিও হয়। উপমহাসাগরীয় অঞ্চল যেখানে প্লেট দুটির মাঝে যেখানে অপসৃত অঞ্চল( সাবডাকশন জোন) আছে সেখানে এই তাপের ফলে থেকে থেকে বাষ্পীভবনের ফলে মেঘফাটা বৃষ্টি হয়ে প্লাবনও হতে পারে, কিছু না হলে আয়নোস্ফিয়ার থেকে কোনো বিশেষ জায়গা থেকে নামবার সময় সেইখানের স্থানীয় মেঘগুলোকে চার্জড করে দিতে পারে, যার ফলে বজ্রপাত একই সাথে অনেক জায়গায় বেশি মাত্রায় হবার ফলে একসাথে অনেক লোকের প্রাণ যেতে পারে।”

অনির্বাণ বলে, “তাহলে এইভাবে একটি শক্তিশালী দেশ, দুর্বল দেশগুলোতে প্রাকৃতিক বিপর্যয় করিয়ে যাবে আর এইথেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই?”

ডঃ শশাঙ্ক বলেন, “আছে, তবে তোমাকে বা তোমার মত লোকদের সাহায্য দরকার হবে কেন না তোমরা যে কোনো জায়গাতে পৌঁছাতে পার যা কোনো মানুষের পক্ষে অসম্ভব। ইন্ডিয়ান-ইউরেশিয়ান প্লেট বাউন্ডারির কাছে যে পুরু কোয়ার্টজ স্ফটিকের স্তর আছে সেখানে এইরকম সময়ে যদি উৎপাদিত বিদ্যুৎ টেনে নেয়া যায় তবে স্ট্রেস ধীরে ধীরে কমে যাবে। উলম্ব বা ভারটিকাল দিকে আর কোনো ওঠানামা বা ভূমিকম্প হবে না।”

অবিশ্বাসের স্বরে অনির্বাণ বলে, “সেটি কীভাবে সম্ভব?”

“প্লেট বাউন্ডারির কাছে সেখানে চৌম্বকশীল পাথরগুলির অতি তীব্র চৌম্বক ঝড়ের সময় পায় অস্থায়ী চৌম্বকধর্ম। এইজন্য নিজেদের মধ্যে আকর্ষণ-বিকর্ষণ এবং সেই কারণে ঘর্ষণের ফলে তাপমাত্রা খুব বেড়ে যায়। অন্যদিকে সেখান থেকে সামান্য দূরেই আছে চারপাশে থারমাইট পাথরে ঘেরা সেই হিমবাহ যার জলের নমুনা তুমি আমায় দিয়েছ। আমার আবিষ্কৃত এই যন্ত্রে দুটি সুপার কন্ডাকটর এবং ভিন্ন ধাতুর দণ্ড আছে যার একপ্রান্ত থাকবে থারমাইট পাথরের ওপরে অতি গরম এই কোয়ার্টজ পাথরের পুরু স্তরে। সেইসময়ের তাপপ্রবাহে, তার ওপরে থাকা কোয়ার্টজ পাথরে প্রবল পিজো-বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে চৌম্বকপদার্থ থারমাইট আরও প্রবল চুম্বকে পরিণত হয়ে যাবার দরুন তাপপ্রবাহ কয়েক হাজার গুন বেড়ে যায়। ধাতুর দণ্ডের অন্যপ্রান্ত থাকবে সামান্য দূরে সেই হিমবাহে। অর্থাৎ ধাতব দণ্ডটির এক প্রান্ত অতি গরম থারমাইট পাথরে, অন্যপ্রান্ত হিমবাহের বরফ ঠান্ডায়। দুই প্রান্তে তাপের ফারাক হওয়াতে যে সামান্য বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে তা কোয়ার্টজ স্ফটিকের পিজো- বিদ্যুৎকেও শুষে নিয়ে প্রবল বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত হবে। এরফলে প্লেট বাউন্ডারিতে জমা হওয়া স্ট্রেস কমে যাবে। এইভাবে ভূমিকম্পের শক্তিকে অতি ক্ষীণ করে দেওয়ায়, ভূমিকম্প হবার সম্ভাবনা খুব দুর্বল হয়ে যাবে। এইরকম যন্ত্র, পুরো জায়গাটায় অনেকগুলি বসাতে হবে।”

অনির্বাণ বলে, “স্যার আমার মাথায় একটি ভাবনা এসেছে। আমরা এই যন্ত্রে আর একটি অতি ক্ষুদ্র যন্ত্র লাগালেই, এই ধংসকারী শক্তিকে এই দেশের কল্যাণ কর্মে নিযুক্ত করতে পারি।”

ডঃ শশাঙ্ক আর অর্পণ দুজনে একসাথে বলে ওঠে, “কী সেই যন্ত্র?” ডঃ শশাঙ্কের কথা শুনতে শুনতেই অনির্বাণ কী কী যন্ত্র কোথায় কোথায় স্থাপনা করতে হবে তার অনেকগুলি স্কেচ করে নিয়েছে। প্রধান যন্ত্রের স্কেচ দেখিয়ে বলে “স্যার প্রধান যন্ত্রের পরে আছে এই অতি ক্ষুদ্র কনভার্টার যা পুরো বিদ্যুৎকে তড়িৎ-চৌম্বকীয় ঢেউ এ পরিণত করবে। লেকের পাশে যে বিরাট এক ফল্ট আছে যা প্লেট বাউন্ডারি ফল্টের সঙ্গে যুক্ত। তাতে স্থানে-স্থানে রাখা রেডিও রিসেপ্টর, এই অতীব শক্তিশালী তড়িৎ- চৌম্বকীয় ঢেউকে টেনে নিয়ে যাবে পাহাড় চুড়োতে রাখা উচ্চ শক্তির রেডিও এন্টেনার কাছে, যার মাধ্যমে এই শক্তি পাঠিয়ে দেওয়া হবে আয়নোস্ফিয়ারের একদম নিচের স্তরে ক্লাউড চেম্বারে। এই চেম্বার সম্পূর্ণ ভাবে ম্যাগেনেটোস্ফিয়ারের আওতার বাইরে। আমাদের বিদ্যুৎ ঘাটতির সময় এই পাহাড়চুড়োর ট্রান্স-রিসিভার সেটের রেডিও এন্টেনা একে টেনে নিয়ে দেশের পাওয়ার গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করে দেবে।”

ডঃ শশাঙ্ক এবং অর্পণ দুজনেই সশ্রদ্ধ বিস্ময়ে অনির্বাণের কথা শুনছিলেন। অনির্বাণ এই সাথে কী কী যন্ত্র কোথায় কোথায় স্থাপনা করতে হবে তার অনেকগুলি স্কেচ করে নিয়েছে। পাহাড়চুড়োতে এন্টেনা বসাবার জায়গায় লিখে রেখেছে অদৃশ্য। প্রফেসর সেইদিকে তাকিয়ে আছেন দেখে সে বলে, “স্যার, এই এন্টেনাগুলোর নিরাপত্তার জন্য এগুলোকে শত্রুপক্ষের উপগ্রহ এবং পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীর কাছে অদৃশ্য হতে হবে।” প্রফেসর বললেন, “এ’ছাড়া এই বিদ্যুৎ এমনভাবে গ্রিডের সাথে বণ্টন করতে হবে যাতে শুরুতে প্লান্টগুলোর কর্তারা এই বাড়তি উৎপাদন পাওয়ার লোড ফ্যাক্টরের অভূতপূর্ব উন্নতি ভাবেন।”

অনির্বাণ বলে, “স্যার এই বিল্ডিঙের কোথাও, নিরালায় বসে শুধু আমি এবং অর্পণ দু’জনে বসে কাজ করতে চাই।”

ডঃ শশাঙ্ক তাঁর চেম্বারের সাথে লাগোয়া তাঁর ল্যাবটি পুরো ছেড়ে দিলেন। ছাদের ঘরে অনির্বাণের বাসস্থান ঠিক করার কথা বলতেই সে বাগানের মধ্যে দুটি ওকগাছের মাঝে বাঁধা দোলনার দিকে তাকাতে তাকাতে বলল, “স্যার, কাজের শেষে বিশ্রামের জন্য আমার পছন্দ ওই দোলনা। এই দোলনাতে বিশ্রাম নিতে-নিতে আমার ক্লান্তি যেমন দূর হবে ঠিক তেমনি আমি ফিরে যাবো আমার ফেলে আসা মানব জীবনের দিনগুলোতে। কেন জানি না আজকাল মাঝে মাঝে আমি বেশ ক্লান্ত হয়ে যাই।”

প্রজেক্ট এন্টিহার্পের যন্ত্র বানিয়ে স্থাপনার উদ্দেশ্যে অনির্বাণ বিদায় নেবার আগে অবধি দেখা গেছে যে ল্যাবের বাগানে ওকগাছের দোলনাটায় কেউ না বসলেও সেটি দোল খেয়ে যাচ্ছে। ডঃ শশাঙ্ক আর অর্পণ ছাড়া পুরো ল্যাবের আর কেউ জানতো না যে সেখানে এক যন্ত্রমানব অনির্বাণ কাজ করছে আর কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে নিজের শরীরী অবস্থা থেকে বদলে অশরীরী হয়ে দোলনায় দোল খায়।

শেষ রাতে মনিটরে অনির্বাণের পাঠানো মেসেজ পড়ছিলেন ডঃ শশাঙ্ক। “স্যার নেপালে আর উত্তর ভারতে ভূমিকম্প, আন্দামানে সুনামি এবং দক্ষিণ ভারতে হড়কা বানের বৃষ্টি আটকে দিয়ে, ভারতে কৃত্রিম চৌম্বক ঝড়ের বিদেশী কারসাজিকে ব্যর্থ করে দিয়েছে প্রজেক্ট এন্টিহার্প। ভুটানের চুখা এবং ভারতের সিকিমের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো আজ রাতে রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন করেছে।” কিন্তু এরপরেই মনিটরে মেসেজগুলো পড়তে পড়তে ডঃ শশাঙ্কের চোখদুটো জলে ভরে আসে। “স্যার, রোবো মানবদের আয়ু নির্দিষ্ট করা থাকে। আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আমার এই কৃত্রিম রোবোমানব দেহ টুকরো-টুকরো হয়ে চিরকালের জন্য অদৃশ্য হয়ে যাবে। এক কল্যাণকর্মের সাথে আমার শেষ কাজ হওয়াতে নিজেকে ধন্য মনে করছি।”

হাহাকার করে কেঁদে উঠলেন পৃথিবীখ্যাত বিজ্ঞানী ডঃ শশাঙ্ক। তাঁর মনে হতে লাগলো যে অনির্বাণ কিছু একটা লুকোচ্ছে তাঁর কাছে। প্রজেক্ট এন্টিহারপের স্থাপনা করতে গিয়েই কি রোবোমানব তার শক্তির উৎস যে সৌরশক্তির ব্যটারিগুলো সেগুলো সূর্যের আলোতে পুনর্জীবিত করতে ভুলে গেছিল? সেইটাই কি আসল কারণ?

অনির্বাণের গলার স্বর শোনা গেল, “স্যার আপনি দুঃখ পাবেন না। আমি আরো অনেকদিন অদৃশ্য অবস্থায় থাকবো আর শেষ রাত্রে এসে আমার প্রিয় ওক গাছের দোলনাতে দোল খাবো। আপনার সিন্টিলেসন যন্ত্রের রিমোটের সেই কোড টাইপ করলেই শুধু আপনি আমার কাল্পনিক প্রতিবিম্ব দেখতে পাবেন।”

ডঃ শশাঙ্ক তাঁর ল্যাবের সামনে আর বাগানে রাখলেন এক রোবোমানব মূর্তি যার মাথায় এক হাল্কা নীল রঙের দীপ জ্বলছে, নিচে লেখা আছে ‘অনির্বাণ’। ডঃ শশাঙ্ক আজকাল শেষরাতের আগেই ঘুম থেকে উঠে পড়েন। বাগানের হাল্কা নীল আলোতে অস্পষ্ট ভাবে দেখতে পান ওকগাছের দোলনাটা দুলছে।

পাঠকেরা যা পড়ছেন