জুলাই ২০১৯



প্রচ্ছদশিল্পী - প্রতিম দাস ও মিশন মন্ডল


(প্রতিটি লেখা Hyperlink করা আছে। লেখার ওপর ক্লিক করে পড়ুন।)


গল্প


লাভক্রফটিয়ান হরর


সাইকোলজিকাল হরর

আশ্রয়ের আঁধার তানজিরুল ইসলাম
নিশি-যাপন সম্বুদ্ধ সান্যাল
পুতুল বিভাবসু দে
কুয়াশার আড়ালে সায়ন্তনী পলমল ঘোষ
বাতাসিয়ার পরীরা সায়নদীপা পলমল
দ্য ক্যাট ফ্রম হেল স্টিফেন কিং অপরেশ পাল
কালো বিড়াল এডগার অ্যালান পো প্রতিম দাস
পুতুল আগাথা ক্রিস্টি মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
খাদ ডরোথি কুইক কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রবন্ধ


অনুবাদ কমিকস




সম্পাদকের কথা

প্রিয় পাঠকবন্ধুরা,

প্রথমেই আপনাদের সবাইকে জানাই প্রীতি ও শুভেচ্ছা। শারদ সংখ্যার পর আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম সাহিত্যের আলাদা আলাদা গোত্র নিয়ে এক একটি সংখ্যা করার, যাতে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার বিস্তর সুযোগ থাকে। সেই মত গত জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়েছিল কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসি সংখ্যা, আর নতুন বাংলা বছরের শুরুতে আমাদের নিবেদন ছিল বিশেষ অপরাধ ও রহস্য সংখ্যা। বেশ কয়েকটি জনরা ফিকশনের ওপর সংখ্যা করার পর এবার আমাদের পরিকল্পনা বিভিন্ন সাবজনরা নিয়ে চর্চা করার। সেই মতো প্রকাশিত হলো ‘লাভক্রফটিয়ান হরর’ ও ‘সাইকোলজিকাল হরর’ নিয়ে ‘পরবাসিয়া পাঁচালী’র বর্ষা ২০১৯ সংখ্যা।

অ্যাপোক্যালিপ্স - লুৎফুল কায়সার

স্বপ্ন

ছোট্ট একটা নৌকার ওপর দাঁড়িয়ে আছে ফারহান। চারদিকে অথৈ সাগর। কালো রাতের আকাশটাকে খুবই বিষণ্ণ লাগছে।

ফারহান জানে না সে এখানে কী করে এলো! আর এসব চিন্তা করার মতো শক্তিও ওর নেই।

শুধুই চেয়ে আছে সে। সামনের দিকে, নিঃসীম আকাশের দিকে...

গাছপাথর - দেবলীনা চট্টোপাধ্যায়

অলংকরণ - প্রতিম দাস

বিড়িতে একটা লম্বা টান দিয়ে ফ্যাক ফ্যাক করে হেসেছিলেন অনন্তবাবু, “আরে মশাই হয় হয়! এ দুনিয়ায় সবই হয়।” আর ঝট করে আমার মনে পড়ে গেছিল ঝুরিদিদার কথা।

আমার ঝুরিদিদা। বাতাসের গায়ে আঁকিবুকি কেটে,কখনো বা খলখল করে হেসে গড়িয়ে পড়ত,কখনো বা মেয়েদের ইস্কুলের বড়দিদিমণির মতো কোমরে হাত দিয়ে কাদের যেন বকাঝকাও করত। আশেপাশের যত অদেখা, অজানা জিনিসের হদিশ ছিল ঝুরিদিদার কাছে। লোকে অবশ্য আড়ালে পাগলী বলত।

প্রত্যাবর্তন - জাকিউল অন্তু

অলংকরণ - প্রতিম দাস

প্রচণ্ড মিউ মিউ শব্দে আমার চটকা ভাঙলো৷ গাড়ির পেছনের সিটে আমার কোলের ওপর বসে আছে ফেলিক্স৷ আমার পোষা বেড়াল৷ বয়স তিন মাস৷ ভীষণ আদুরে আর বেশ ভীতু৷

গাড়ি চালাচ্ছিলো আমার অফিসের বন্ধু তন্ময়৷ গাড়িতে যাত্রী মাত্র তিনজন৷ আমি, তন্ময় আর ফেলিক্স৷ আমি ফেলিক্সকে কোলে নিয়ে ড্রাইভিং সিটের পাশেই বসেছিলাম কিন্তু ঘুমে চোখ লেগে আসায় একটু পেছনে এসেছি ঘন্টাখানেক হলো৷

আশ্রয়ের আঁধার - তানজিরুল ইসলাম

অলংকরণ - পার্থ মুখার্জী

ভয়...

ভয় মানুষের সবচেয়ে শক্তিশালী অনুভূতি। ভয় একটা মানুষকে ভেতরে ভেতরে মেরে ফেলতে পারে। মানুষটার অস্তিত্বকে করে তুলতে পারে দুর্বিষহ।

দুর্ভাগ্য যে, নিউ কলকাতা চাইল্ড হোমের বাচ্চাগুলোর নিত্যসঙ্গী এই অনুভূতিটাই।

নিশি-যাপন - সম্বুদ্ধ সান্যাল

অলংকরণ - মিশন মন্ডল

সন্ধ্যেবেলায় হেঁটে ফেরার পথে পাড়ার মুখে হরেনদার চায়ের দোকানের সামনেটা বড়ই থমথমে লাগলো অম্বিকার। একেবারে ফাঁকা নয়, তবে অন্যদিন জমজমাট হৈচৈ অনেক বেশি থাকে। দোকানের ভিতরে একটা টিভি সেটকে নিয়ে বেশিরভাগ জটলা।

পুতুল - বিভাবসু দে

অলংকরণ - প্রতিম দাস
বি. দ্র.- এই লেখার কিছু অংশের বিবরণ ও ভাষা সব ধরণের পাঠকের উপযুক্ত নয়।

আমার আর রাস্তা নেই। আমি জানি, আমি চাইলেও পালাতে পারব না। ওই অশুভ অলীক মায়াজাল কেটে বেরোবার কোনও পথ নেই। বড় ভয় হয়। ওর ঠান্ডা শরীরটা যখন অক্টপাসের মতো আস্তে আস্তে জড়িয়ে ধরে আমার বিবস্ত্র শরীরটাকে, আতঙ্কে কুঁকড়ে যাই।

কুয়াশার আড়ালে - সায়ন্তনী পলমল ঘোষ

অলংকরণ - মিশন মন্ডল

বৃষ্টির ফোঁটাগুলো সূঁচের মত চোখে-মুখে এসে ফুটছে। হাতের কালো ছাতাটা খুলেই ফেললাম। কালো রংটা আমার ভীষণ পছন্দের। এই যে মেঘলা বিকেলটা আস্তে আস্তে রাতের কালো আঁধারে ঢুবে যাবে একটু পরে আমার তখন বেশ আরামবোধ হবে। রাত যত ঘন হয়ে আসে প্রকৃতি রাতের চাদরে আরও এক পোঁচ করে আলকাতরা মাখায় তখন আমার মনে বেশ শান্তি আসে। অথচ বেশিরভাগ মানুষকে দেখো অন্ধকারকে ভয় পায় যেন রূপকথার গল্পের সেই দাঁতওয়ালা বিশাল দৈত্য যে হাঁ করে গিলে খেতে আসছে।

বাতাসিয়ার পরীরা - সায়নদীপা পলমল


অলংকরণ - মিশন মন্ডল

সারারাতের প্যাচপ্যাচে গরমের পর ভোর রাতের দিকে জানালা দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ভেসে আসতেই ঘুমটা গাঢ় হয়ে ধরেছিল প্রেরণার। আচমকা বুকের ওপর একটা অসহ্য চাপ… চমকে গিয়ে চোখ মেলে দেখল সমুদ্র কখন যেন চুপিসাড়ে চড়ে বসেছে ওর ওপর। অবাক গলায় প্রেরণা বলল, “কী করছটা কী?”

দ্য ক্যাট ফ্রম হেল - স্টিফেন কিং

হুইলচেয়ারে বসা বুড়োটাকে অসুস্থ আর আতঙ্কিত মনে হচ্ছিল হালস্টনের, যেন মরবার জন্য তৈরি হয়ে আছে।

এমনটা সে আগেও দেখেছে। হালস্টনের কারবারই মৃত্যু নিয়ে; এ পর্যন্ত তার খুনের তালিকায় যোগ হয়েছে আঠারোজন পুরুষ আর ছয়জন নারী। মৃত্যুমুখী দৃষ্টি কেমন হয়, সে জানতো।

কালো বিড়াল - এডগার অ্যালান পো

যে কাহিনী লেখার জন্য এখন হাতে কলম নিয়ে বসেছি সেরকম একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় বা বলা যেতে পারে এরকম জান্তব ঘটনার বিবরণী আমি আগে লিখিনি। কোনোদিন যে লিখবো এরকম কোনো ইচ্ছেই আমার ছিল না।

পুতুল - আগাথা ক্রিস্টি

ভেলভেটে মোড়ানো চেয়ারের উপর শুয়ে আছে পুতুলটা। আলো খুব একটা নেই ঘরে। লণ্ডনের আকাশ অন্ধকার হয়ে আছে। হালকা আলোয় একে-অন্যের মাঝে যেন ডুব দিয়েছে পর্দা, কার্পেট আর অন্যান্য আচ্ছাদন। পুতুলটাও ব্যতিক্রম নয়। সবুজ ভেলভেটের কাপড়, ভেলভেটের টুপি এবং রঙিন মুখোশ পরে শুয়ে আছে সে।

খাদ - ডরোথি কুইক

খাড়া পাহাড়টার একেবারে ধারে বসে ছিল মেয়েটা। স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল নিচের দিকে, যেখানে এলোমেলো খাঁজকাটা পাথরগুলোর ওপর দিয়ে তীব্র গতিতে বয়ে চলেছিল জলের ধারা। সে দেখছিল, অস্তগামী সূর্যের আলো কেমন করে তার গোলাপী আভা ছড়িয়ে দিচ্ছে সেই ঘুরে ঘুরে পাক খেয়ে ওঠা জলের ওপর। সব মিলিয়ে একটা অপার্থিব ভাললাগা, তবু সেদিকে তাকালেই মেয়েটা বারবার কেঁপে কেঁপে উঠছিল।

মন্দির - গোও তানাবে

নিয়ারলাথোটেপ - হার্নান রদ্রিগেজ

লাভক্র্যাফটের দুনিয়া - প্রতিম দাস

স্বীকার করতে দ্বিধা নেই ৪০ বছরের পাঠক জীবনে টুকটাক এই মানুষটার লেখা পড়লেও, গত ২ বছর ধরে যেভাবে মানুষটাকে নিয়ে চর্চা করছি তা এর আগে কোনোদিন করিনি। ছোট বড় মিলিয়ে ৩১ টা গল্প অনুবাদ করেছি। তার সাথে সাথেই এ বছরের শুরুতে আরম্ভ করেছি থুলু মিথোজ এর নানান বিষয়আদির একটা বাংলা বিশ্বকোষ বানানোর কাজ। যারা এইচ পি লাভক্র্যাফটের সম্বন্ধে জানে তাদের কাছে CTHULU বা থুলু অতি চেনা শব্দ ।