বর্ষা ২০২০

মূল ছবি— ভ্লাদিমির মান্যুখিন, গ্র্যান্ডে ডিউক

সম্পাদকের কথা

প্রিয় পাঠকবন্ধুরা,

সাধারণত নতুন সংখ্যার সম্পাদকের কথা শুরু করি পাঠকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে। কিন্তু মনে অঢেল শুভ ইচ্ছা থাকলেও চতুর্দিকের অশুভ ঘটনা তাকে ম্লান করে দিচ্ছে। দিনে হাজার হাজার মানুষ মারা পড়ছে করোনার প্রাদুর্ভাবে। এই লেখার সময় দেখছি এখনই দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০০০ ছুঁই ছুঁই। কারণ লকডাউন উঠতেই মানুষ বাধ্য হয়ে বেরিয়ে পড়েছেন পথে, জীবিকার প্রয়োজনে। আবার অনেকেই আগের মতো জীবনযাপন করতে লেগেছেন। ফলে সংক্রমণ বাড়ছে হু হু করে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সামিল।

শ্রেষ্ঠ = সমাপ্তি - রুমেলা দাস

উপন্যাস
এপ্রিল, ২০২০

‘তাহলে কি আর কোনও উপায়ই নেই স্যার? আমাদের... আমাদের সমস্ত পরিকল্পনা কি এভাবেই...? মানুষগুলো একের পর এক মুড়ি মুড়কির মত পটাপট করে মরে যাচ্ছে। কেউ বাঁচাতে পারছে না। বিদেশের হাল দেখেছেন নিউজ চ্যানেলে? রাস্তায় মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। নিজের আত্মীয়রাও ছুঁয়ে দেখছে না। আর সেখানে আমাদের দেশের তো মেডিকেল স্ট্রাকচার-ই জিরো। একবার কমিউনিটি স্প্রেড শুরু হলে থামানো খুব একটা সহজ কাজ হবে বলে মনে হচ্ছে না।

খেলা শেষ? - সায়নদীপা পলমল

উপন্যাস

পড়ন্ত বিকেলের লাল শামিয়ানাটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দিয়া। মাঝে মাঝে এক দুটো পাখি শামিয়ানা ভেদ করে ছুটে চলেছে বাড়ি ফেরার তাগিদে, দিয়া চিনতে পারে না ওদের, দূর থেকে সবাইকে কালো দেখায়। না চিনতে পারলেও দিয়া জানে ওরা ঠিক বাড়ি ফিরে যাবে আর কিছু পরেই, কিন্তু দিয়া!

বাড়ি বলতে ঠিক কী, দিয়া আজ অবধি সেই মানে বুঝতেই ব্যস্ত। বাবার ট্রান্সফারের চাকরি, ছোটবেলার থেকেই তাই ভবঘুরে জীবন দিয়ার। মাঝে মাঝে খুব লোভ হয় ওর, একটা বাড়ি থাকবে যার প্রতিটা কোণায় জড়িয়ে থাকবে ওর পাঁচ বছরের স্মৃতি, দশ বছরের স্মৃতি, বিশ বছরের…

মাটি আকাশের মাঝখানে - পার্থ দে

গল্প

ওয়্যারহাউসের জানলা দিয়ে ছেলেটা আকাশটার দিকে তাকাল। অনুজ্জ্বল, কালচে আকাশ। আবার ম্লান আলো আর নৈঃশব্দে ভরা একটা কর্মব্যস্ত দিন শুরু হতে চলেছে। ইদানীং তার মনে হয় চতুর্দিকে একটা বিষণ্ণতার আস্তরণ তাকে জড়িয়ে রেখেছে। ওয়্যারহাউসের এই হ্যাঙ্গার, প্যান্ট্রি, শৌচালয়, বসার চেয়ার, টেবিল, সামনে রাখা কন্ট্রোল প্যানেল কিচ্ছু তার ভাল লাগে না। কতদিন ছেলেটা একটা নদী দেখেনি। মৃদুমন্দ বাতাস এসে তার চুল এলোমেলো করে দেয়নি। অথচ এই মহার্ঘ চাকরিটার জন্য সে আজীবন স্বপ্ন দেখেছিল।

আয়ুমু - সৌরভ ঘোষ

গল্প

“যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,

তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো।”

—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (‘প্রশ্ন’, পৌষ, ১৩৩৮)

সাল ২০৭৫ (মেনিস-১ বস্তি, পূর্ব-এশিয়ার একফালি ভূখন্ড)

এক অদ্ভুত নেশায় বুঁদ হয়ে আছে মানবসভ্যতা। এই নেশা মদ নয়, গাঁজা কিংবা কোনও সাইকাডেলিক ড্রাগ নয়। আফিমের থেকেও বিপজ্জনক এই নেশার উপাদান “অলীক বাস্তব”।

রেনেসাঁ - দেবলীনা চট্টোপাধ্যায়

গল্প

—“আর কি সত্যিই কোনো উপায় নেই?”

—“সরি প্রোফেসর। এটাই একমাত্র রাস্তা। আমি ৭৪৩২১৫৭৯০৩ সংখ্যক ডেটা অ্যানালিসিস করে দেখেছি।”

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ডঃ উৎসব নিয়োগী। সামনের খোলা জানালা দিয়ে দূরের মাঠটার দিকে চলে গেল তাঁর নজর। এটা ওয়র্কস্টেশনের মাটির ওপর তলার অংশ। বাইরে থেকে দেখলে একটা ভাঙ্গা ওয়ার বাঙ্কার ছাড়া কিছুই না। গতরাতেই একটা ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প হয়ে গেছে।

নতুন স্বর্গ - সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়

গল্প

রেডিওতে শুনেছিলাম রাতের বেলা নাকি ঝড় আসতে পারে, সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি। কিন্তু কমরেডদের এসব তুচ্ছ জিনিস কবেই বা দমাতে পেরেছে। মেসবাড়িতে একা থাকি। লুকিয়ে নকশাল করতাম। ধরা পড়ার ভয়ে মুখে কংগ্রেসী বুলি আওড়ালেও মনে মনে আমি কিন্তু সাচ্চা কমিউনিস্ট থুড়ি সোস্যালিস্ট।

সেদিন বিকেল থেকেই শুরু হয়েছিল পার্টি অধিবেশন। আজকাল আর গোপনে ঝটিকা মিটিং করতে হয় না। পার্টি ক্ষমতায়—কমরেডরা সবাই একটু রিল্যাক্সড মুডে।

প্রজেক্ট সুপ্রিমো - শোভন কাপুড়িয়া

গল্প

সূচনা

আর্টিফিশিয়াল সুপার ইন্টেলিজেন্স চালিত এফভিডিস বা ফাস্ট ভিডিও ডিস্ট্রিবিউশন স্ক্রিনের মাধ্যমে কোনো এক ব্যক্তির একটা ভিডিও কল আসে তার কাছে... মুখে তার একটা তীর্যক হাসি ফুটে ওঠে। এই গোপন কনফারেন্সের জন্যই সে অপেক্ষা করছিলো।

—বলিয়ে হরকিষণ সাহাব, শুনা হ্যায় বহত দিনো সে আপ মুঝসে বাত করনা চাহতে থে!

—হান জি। আপকো মেরা মেসেজ তো মিল হি গ্যায়া হোগা। তো বোলিয়ে কব সে শুরু করনা হ্যায়।

অনাহূত - পৃথ্বীশ গজী

গল্প

“গুড মর্নিং পাপা, তুমি যে বলেছিলে এই দেশের ইতিহাস বলবে আমাকে।”

পামটপে সারা পৃথিবীর খবর ঘাঁটছিলাম। ঈশিতার কণ্ঠস্বর কানে আসতেই তাকালাম ওর দিকে। আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ও। ওদের স্কুলে ফোর্থ স্ট্যাণ্ডার্ড থেকে পড়ানো শুরু হয় এই দেশের ইতিহাস। ঈশিতাও কিছুদিন আগে ফোর্থ স্টাণ্ডার্ডে উঠেছে।

ইরাটোম্যানিয়া কিংবা স্মৃতি-খোঁড়ার গান - জুবায়ের রুমেল

গল্প

“...তারপর বলেন কী সমস্যা আপনার?” মৃদু হাসির সঙ্গে এক পেশাদারী কাঠিন্য ঝিলিক দিয়ে যাচ্ছে প্রৌঢ় ভদ্রলোকের ঠোঁটে। ঢাউশ সাইজের এক্সিকিউটিভ টেবিলটার পাশে বেমানান চেয়ারটায় বসা যুবকটা এবার ভাল করে তাকাল প্রশ্নকর্তার দিকে। এতক্ষণ তার চোখ ঘুরছিল ঘরময়। হাসিতে অবজ্ঞা না অভয় মিশে আছে বুঝতে পারল না। সে যে পেশায় আছে সেখানে হুট করে কাউকে বিশ্বাস করা যায় না।

এমব্রায়ো - জাকিউল অন্তু

গল্প

আবার! সেই একই ঘটনা। তন্ময় যেন অনন্ত যাত্রায় আছে। আশেপাশে মানুষ যে একেবারে নেই তা নয়, কিন্তু বেশ তফাতে। সবাই হাঁটছে। প্রথমে মনে হলো একটা প্রশস্ত রাস্তা। পরে টের পেলো রাস্তাটা মূলত একটা ব্রীজ। একটু সাবধানে দু’পাশে উঁকি না দিলে দু’দিকের জলাধার চোখে পড়ে না। সাবধানে বলছি কারণ সে হেঁটে চলেছে একটা অদৃশ্য নির্দিষ্ট পথ ধরে। ওর ইচ্ছাশক্তির কোনও মূল্য নেই এখানে।

লটারি - পরাগ ভূঞ্যা

গল্প

নক্ষত্রখচিত আকাশ চেয়ে আছে আমার দিকে। রোজই চেয়ে থাকে। ওর কাছে আমিই ঈশ্বর। আমার ইশারায় আবার ভোরের ক্যানভাস হয়ে যায়। শিশু রৌদ্রের মৃদু আভা নেমে আসে। স্পিকারে বেজে ওঠে পাখিদের কলতান। এখন যদিও দুপুর তবুও রাতের আকাশ ভালো লাগে। আমার আর শ্রীপর্ণার ভালো লাগে। মাঝে মাঝেই ওর ভেন্টিলেশন্ মাস্ক খুলে ওকে চুমু খেতে ইচ্ছে করে।

নব রবিকিরণে - রাকেশকুমার দাস

গল্প
এক

জলতরঙ্গের মতো ঝিলমিল সঙ্গীতের মূর্ছনায় আর মোরগের ডাকে ঘুম ভেঙে গেল নূর সুমনের। চোখ না খুলেই হাত নাড়িয়ে অ্যালার্মটা বন্ধ করল, মোরগও থেমে গেল। ধীরে ধীরে চোখ খুলতেই ঘরের উলটো দিকের দেওয়ালে মোরগটাকে দেখতে পেল নূর। খড় দিয়ে ছাওয়া একটা মাটির বাড়ির সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছে, পাশে একটা গরু বিচুলি চিবিয়ে চলেছে।

গ্রীষ্ম ২০২০

মূল ছবি— ভ্লাদিমির মান্যুখিন

সম্পাদকের কথা

প্রিয় পাঠকবন্ধুরা,

প্রথমেই আপনাদের সবাইকে জানাই নতুন বাংলা বছরের প্রীতি ও শুভেচ্ছা। বেশ কিছুদিন পরে আপনাদের কাছে নিয়ে এলাম পরবাসিয়া পাঁচালীর এই নতুন সংখ্যা। পত্রিকা প্রকাশে বেশ খানিকটা বিলম্ব হলেও আশা করি আপনারা চারপাশের চরম নিরানন্দময় পরিস্থিতিতে আমাদের অপারগতার কথা কিছুটা হলেও অনুধাবন করতে পেরেছেন।

শ্রোডিঙ্গারের ঐশ্বরিক বিড়াল - মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম

উপন্যাস
অধ্যায় এক
২০৮১, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, টিচার্স কোয়াটার

“আরে ভাই কেন শুধু শুধু বিরক্ত করছেন? আর কতবার বলবো আমার কাছে সেই রিসার্চের আর কোনও ভার্সন নেই। যে কপিটি ইউনিভার্সিটির তদন্ত কমিটিকে দেওয়া হয়েছিলো সেটিই ফাইনাল ভার্সন। কয়েকদিন পরপর ফোন দিয়ে সেই একই ঘ্যানঘ্যান করেন! বিরক্তিকর!”

ফোনের অপর পাশ থেকে অচেনা কণ্ঠটি বলে, “আমরা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে খবর পেয়েছি আপনার কাছে আরেকটি ভার্সন আছে। দেখুন, আপনি যতো টাকা চান আমরা দিতে প্রস্তুত। আমাদের স্যার টাকা পয়সা নিয়ে চিন্তা করেন না। আপনি…”

AU REVOIR - সায়ন্তনী পলমল ঘোষ

উপন্যাস
পূর্বকথা

স্বচ্ছ দেওয়ালের ওপারে তাকিয়ে ছিলেন দীর্ঘকায় পুরুষটি। হাজার হাজার জোনাকির মত আলোকরাজিতে সেজে উঠেছে রাতের শহর। আকাশে হাজার হাজার নক্ষত্ররাজি নিশ্চিন্তে বিশ্রামরত। বুদ্ধিদীপ্ত চোখ দুটো বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকলেও মাথার মধ্যে অনেক হিসেব নিকেশের কাটাকুটি আর কান দুটো সজাগ হয়ে শুনছে ঘরের মধ্যে উপস্থিত দ্বিতীয় ব্যক্তির কথা। কথা না বলে পরিকল্পনা বলাই ভালো। কথা শেষ করে দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রথম ব্যক্তির দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। হয়ত তাঁর মনের খবর বোঝার চেষ্টা করতে লাগল। কয়েক মুহূর্ত পর প্রথম ব্যক্তি দ্বিতীয় ব্যক্তির দিকে ফিরে তাকালেন। মুখে ব্যঙ্গাত্মক হাসির আভাস।

শিশুশিক্ষা - সুমিত বর্ধন

গল্প

মহামহিম মান্যবর শ্রীযুক্ত অ্যান্ডি জি. এইচ. চিয়ুং

বৃহৎপ্রাচ্য যুক্তরাজ্য মানব শিক্ষা বিভাগ নিযুক্ত

ভারতবর্ষীয় শিক্ষাসমাজধিপতি মহাশয়েষু

 

সমুচিত সম্মানপূর্ব্বক সবিনয়নিবেদনমিদম

 

মহাশয় অবগত আছেন মেধাযন্ত্রোপরি অধিক নির্ভরশীলতা ও প্রথম পাঠোপযোগি পুস্তকের অসদ্ভাব হেতু অস্মদ্দেশীয় শিশুগণের যথা নিয়মে স্বদেশ ভাষা শিক্ষা সম্পন্ন হইতেছে না

চড়াই পাখি, ফিরে এসো - রনিন

গল্প

বারান্দায় দাঁড়িয়ে চারপাশে গজিয়ে ওঠা পিঁপড়ের ঢিবিটাকে দেখছিলো ‘কিরা’। ওটা আসলে শহর। সন্ধ্যা নেমে আসার আগে যতক্ষণ রাস্তার উজ্জ্বল আলোগুলো চোখ বুজে থাকে, ওই চেনা জনপদটাকেই যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য কেমন অন্ধকার আর নোংরা বলে মনে হয়। আলো জ্বললেই সব মালিন্য উধাও ভোজবাজির মত।

পালনকর্তা - লুৎফুল কায়সার

গল্প
শুরুর আগে
কেস্টভিল,
আমেরিকা,
১৭ই নভেম্বর, ২০৩০

অদ্ভুত বইটা খুলে এক নাগাড়ে পড়ে যাচ্ছেন ড. রায়হান খান। সত্তরের মতো বয়স হবে তাঁর, এই বয়সেও যথেষ্ট শক্ত-সমর্থ তিনি। বইটার প্রায় শেষের দিকে এসে গেছেন, পৃথিবীকে এই মহামারি থেকে বাঁচানোর এই একটাই উপায়।

নশ্বর - সোহম গুহ

গল্প

আমার মেয়ের জন্ম হয়েছে আজকে; তার প্রথম কান্না ডুবে গিয়েছে কলকাতার দাঙ্গায় সদ্যমৃত মানুষের আর্তনাদে। না, ১৯৪৬-এর মত হিন্দু মুসলিমের মধ্যে হয়নি এই লড়াই; হয়েছে ভীত, আতঙ্কিত একদল মানুষের মধ্যে। তাদের আমি দোষ দিই না। বেলভিউ হাসপাতালের কাচের জানলা ভেদ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন কলকাতার রাস্তায় জ্বলা গাড়ির আগুনের আলো কতটুকুই বা চোখে পড়েছে আমাদের?

মহা সিমুলাই - তানজিরুল ইসলাম

গল্প

তিহিকিহিলাস নথি

 

নথি নম্বর: টধ-২০৮৭৫৪৮১৮৩৫৬৫৮৫৩৯

 

মহাবিশ্ব ১০১৮৭১ থেকে সফল উৎক্ষেপণের পর মানবজাতির ‘ভয়েজার মিশন’ এর পরবর্তী ঘটনা ও পরিণতিসমূহ নথিভুক্ত করা হয়েছে এই নথিতে।

অদম্য - সহস্রাংশু গুহ

গল্প

‘ভয়’, ছোট্ট নিগূঢ় এই শব্দটি কত গভীরভাবে জড়িয়ে যায় একেক সময় মানুষের জীবনে। তাপমান যন্ত্রের পারদ যখন শূন্যের নীচে গিয়ে স্থবির হয়ে যায়, হিমেল শীতল বাতাস যখন হু হু শব্দ করে বৃদ্ধ মানুষটির অনাবৃত মুখের ফ্যাকাসে কুঞ্চিত চামড়ায় শলাকার মতো বিঁধতে থাকে, শরীরের শেষ উষ্ণতাটুকুও যখন আড়াল খুঁজতে উদ্যত হয় সেই সময়ও ভয়ের অনুভূতি বেরিয়ে আসে কানের পাশ দিয়ে গরম লবণাক্ত জলের রূপ ধরে।

শুদ্ধিকরণ - মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ

গল্প

প্রত্যেকটা বছর একটু একটু করে কমতে থাকে আমার প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রছাত্রী সংখ্যা, একজন-দুইজন করে মুছে যেতে থাকে স্মৃতি থেকে। আজ আমরা ডেস্কগুলোকে বৃত্তাকারে সাজিয়েছি; আমাদের শিক্ষিকা, মিস সাদিয়া, বলছেন যে সিন্থিয়া এই দুনিয়ার চাইতে অনেক উত্তরে একটা জায়গায় গিয়েছে।

অন্তিম উপহার - শিমুল মন্ডল

গল্প

২৫শে মার্চ, সোমবার, ২০৭৫ খ্রিষ্টাব্দ। নিজের বসার ঘরের প্রিয় কাউচটায় আধশোয়া হয়ে ভ্রু কুঁচকে সামনের হলোগ্রাফিক পর্দায় চেয়ে আছেন প্রফেসর লি ওয়েনল্যাং । পর্দা জুড়ে রয়েছে পৃথিবীর একটা মানচিত্র। মানচিত্রটা দেখে নিজের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যায় প্রফেসর লি’র। পৃথিবীটা আর আগের মত নেই, ভেবে ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন তিনি। তার ছোটবেলায় পৃথিবীর মানচিত্রে সাতটা মহাদেশ ছিল, আর এখন আছে মাত্র পাঁচটা।

শীত ২০২০

প্রচ্ছদশিল্পী - সুমিত রায় ও মিশন মন্ডল

সম্পাদকের কথা

প্রিয় পাঠকবন্ধুরা,

প্রথমেই আপনাদের সবাইকে জানাই নতুন বছরের প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আপনাদের সঙ্গে পরবাসিয়া পাঁচালীও পেরিয়ে এল আরো একটা বছর। গত বছর এই সময়েই প্রকাশিত হয় আমাদের বিশেষ কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসি সংখ্যা। নতুন বছরের শুরুতে কী বিষয়ে আমাদের পত্রিকা সাজানো যায় নিয়ে বেশ দোলাচলে ছিলাম। তখন একদিন দুই পাঠকের যে কথোপকথন শুনি তা খানিকটা এইরকম...

ভুতুমের ঝিঁঝিভূত - সাম্য দত্ত

হাসির উপন্যাস

অলংকরণ - মিশন মন্ডল

একে তো রোগাপাতলা শরীরটা দিয়ে উইকেটের অর্ধেক‌ও আড়াল হয় না, তায় ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দার! গ্লাভস নেই, হেলমেট নেই, এমনকি অন্ধের যষ্টি একখানা ব্যাট‌ও নেই---- ব্যাটিং ক্রিজে দাঁড়িয়ে থরথর করে কাঁপছিল ভুতুম। একটা বল, যা হোক করে এই একটা বল পার করতে পারলেই আজকের মতো নিশ্চিন্দি!

শিবুর সন্ন্যাস - দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

হাসির গল্প

অলংকরণ : সুমিত রায়

শিবুদের বাড়িটা একটা বিচিত্র জায়গা ছিল। সবসময় গিজগিজ করছে লোকজন। বাবারা আটভাই, মা কাকিমা আটজন, জ্যাঠতুতো খুড়তুতো মিলে একতিরিশজন ভাইবোন, তাদের বয়স একুশ থেকে সাড়ে আট মাস, দুই পিসি, দাদু-ঠাকুমা, তাছাড়া, দিনে গড়পড়তা দশজন অতিথ কুটুম, আর এই সমস্ত লোকজনের দেখভাল করবার জন্য বাঙালী, বিহারী, উড়ে মিলে বেশ ক’জন কাজের লোক।

গোবিন্দগড়ের রাজামশাই - সুস্মিতা কুণ্ডু

হাসির গল্প

অলংকরণ : সুমিত রায়

রাজামশাইয়ের মন খারাপ। খারাপ মানে খুউউউব খারাপ, বেজায়রকমের খারাপ। যেরকম খারাপ হলে নলেন গুড়ের রসগোল্লাও মোটে ন‘টা খেয়েই দীর্ঘশ্বাস ফেলে থেমে যেতে হয় কিংবা ধরো রানিমা পাতে পাঁঠার কালিয়ার বদলে মুর্গির ট্যালট্যালে ইস্টু না কী যেন দিলেও রাজমাতার কাছে গিয়ে নালিশ করতে ইচ্ছে করে না, ঠিক সেই রকম মন খারাপ রাজামশাইয়ের। আর হবে নাই বা কেন?

বাস্তবসম্মত - ধূপছায়া মজুমদার

হাসির গল্প

।।১।। (ধরে নাও এসব 'গৌরচন্দ্রিকা')

 

সরসতা নাকি ছড়িয়ে রয়েছে দশ দিকে, কেবল কুড়োতে জানলেই হলো। তা, সে জিনিস কুড়োনোর কি স্পেশাল কোনও যন্তর পাওয়া যায় বাজারে? নইলে সংসারের গোড়ায় সারবস্তু জুগিয়ে সংসারের চাকা সচল রাখতে রোজ ভোররাত থেকে মাঝরাত পর্যন্ত যে উস্তুমকুস্তুম লড়াইটা লড়ে যেতে হয় সত্যসাধন দত্তকে, তার মাঝে সরসতা দেখাই বা দেবে কখন, আর ধরাই বা দেবে কখন?

বাঁশ - দেবলীনা চট্টোপাধ্যায়

হাসির গল্প

অলংকরণ - পিয়াল চক্রবর্তী

-মশাই, ও মশাই, শুনছেন?

-উঁ?

-আরে মোলো যা! আরে ওওও দাদা, বলছি আপনি কি ডেডবডি নাকি?

কনস্ট্যান্টস - অনিন্দ্য রাউৎ

হাসির গল্প

অলংকরণ - মিশন মন্ডল

বাজি ধরে কিছু করাটা ঠিক ভালো লাগে না আমার, কিন্তু আমার ভালো লাগে না বলেই বা শুনছেটা কে? আসলে আমি বা অনন্য যাই চাই তা কোনোদিন হয় না। সেই ছোট থেকেই এমনটা হয়ে আসছে দেখি, যখন খুব ভালো পরীক্ষা দিয়ে আসতাম, মন খুশি থাকতো, সেদিন মাঠে গিয়ে শূন্য রানে রান-আউট হতামই!

সাজেকের লোমশ আতঙ্ক ও এইট মেটাল ম্যান - শিমুল মন্ডল

হাসির গল্প

সবুজ পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা চায়ের দোকানটার কাঠের ঝুল বারান্দায় বসে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ভবাদা বলল, “ধ্যাত, এমন হবে জানলে তোদের সাথে আসতামই না।” ভবাদার কথাটার জবাবে যে কিছু বলব সে উপায় নেই, আসলে বেড়াতে এসে এভাবে ঘরে বসে থাকতে কারই বা ভালো লাগে, এমন হবে জানলে হয়ত এদিকে না এসে অন্য কোথাও যাওয়া যেত।

আজব প্রাপ্তি - সুমন মিশ্র

হাসির গল্প

এক

ঠুকঠুক,খচখচ, ঠকঠক, ফসফস।

বেশ কিছুক্ষণ ধরেই নানারকম শব্দ আসছিল বাইরের বাগান থেকে। নিতুবাবুর স্ত্রী শশীকলার ঘুমটা বেশ পাতলা, একটু শব্দেই ভেঙ্গে যায়। আর এই শব্দটা তো বেশ অনেকক্ষণ ধরেই চলছে। তবে একটানা নয়, থেকে থেকে, মাঝে মাঝে। প্রথমে ঘুম ভাঙলেও ঠিক ঠাওর করতে পারছিলেন না ব্যাপারটা। হয়ত কোন ধেড়ে ইঁদুর ঘরে ঢুকে পড়েছে। অথবা মুখুজ্জেদের বদ হুলোটাও হতে পারে।

আবুলের দোকান - মোঃ শোআইব খান

হাসির গল্প

 

শেখ আবুল কাসেমকে আশেপাশের নানা লোক নানা নামে চেনে। প্রতিবেশীর কাছে তিনি আবুল ভাই আবার ক্ষমতাবলে বড়লোক বন্ধুর কাছে তিনি শুধুই আবুল। বাড়ির বাইরে রাস্তার হাঁটার সময় মাঝে মাঝে ছেলেপিলেদের কাসেম স্যার, কাসেম স্যার বলে সালাম দেওয়াটাও একেবারে পুরনো হয়ে গেছে আবুল সাহেবের কাছে। লোকজন এই ডাক শুনে মনে মনে যা অনুমান করে তা একদম মিথ্যা না।

দলিলের খোঁজে - বিভাবসু দে

হাসির গল্প

অলংকরণ : সুমিত রায়

উফ! আরেকটু হলেই ট্রামের তলায় হুমড়ি খেয়ে আমার ‘জীবনানন্দ’ চিরজীবনের মতো ঘুঁচে যাচ্ছিল! জোর বাঁচান বেঁচে গেছি। আসলে ব্যাপারটাই এমন যে চোখে পড়লে যে-কোনও সুস্থ মানুষেরই স্থান-কাল জ্ঞান লোপ পাবে; তখন ট্রাম কেন ডাইনোসর তেড়ে এলেও হুঁশ থাকবার কথা নয়। মানে জীবনে ব্যবসা অনেক দেখেছি, তাই বলে এমন অভিনব উদ্যোগ! তাও আবার দিনেদুপুরে, মাঝরাস্তায়, একেবারে দেয়ালে পোস্টার সাঁটিয়ে!

দ্য ওয়ে আপ টু হেভেন - রোয়াল্ড ডাল - লুৎফুল কায়সার

অনুবাদ গল্প

কোন জায়গাতে যাওয়ার সময় কিংবা ট্রেন, প্লেন, বাস ইত্যাদি ধরার সময়ে মিসেস. ফস্টারের সমস্যাটা শুরু হয়।

সারাটা জীবন উনার মধ্যে এক অদ্ভুত আতংক কাজ করে এসেছে, যে তিনি হয়ত জায়গাটাতে দেরী করে পৌছবেন কিংবা ট্রেন পা প্লেন ধরতে পারবেন না!

হার-না-মানা মেইসেল - জয়িতা সাহা

প্রবন্ধ

ষাটের দশকের নিউইয়র্কে সন্ধেবেলার দিকে যদি গ‍্যাসলাইট পাবে যান, মিজের সাথে মোলাকাত হতে পারে। মিরিয়াম মিজ মেইসেল। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির অঙ্কের অধ্যাপক এব্রাহাম আর ওকলোহমা প্রভিন্সের উত্তরাধিকারী, প‍্যারিসে শিল্পচর্চা শেখা রোজের একমাত্র কন‍্যা। মিজ তার জীবনের প্রতিটি নিঃশ্বাস প্ল্যান করে নিতে শিখেছে। সম্ভ্রান্ত জিউইশ পরিবারের আদবকায়দা পালনে তার জুড়ি মেলা ভার।

সাহিত্যে হাস্যরস - তপন তরফদার

প্রবন্ধ


পৃথিবীতে মানুষ নামক প্রাণীরাই হাসতে পারে। অন্যরা কেন হাসতে পারে না, তা খুঁজতে গেলে দেখা যায় মানুষকে হাসার জন্য সব থেকে বেশি স্নায়ু-পেশীর সাহায্য নিতে হয় --- এমনকি বিরহ, শোক-সন্তাপের ক্রন্দনের থেকেও বেশি স্নায়ুর ব্যবহার করতে হয় হাসির জন্য। হাসি সংক্রান্ত শরীরবিদ্যাকে বলে “গেলাটোলজি” (Gelatology)। হাস্য গবেষক রবার্ট প্লোভিনের অভিজ্ঞতায় বলে, মস্তিস্কের বিভিন্ন স্নায়ু, পেশী বিভিন্ন শারীরিক মানসিক ঘটনা ঘটায়।